দাউদাউ আগুনে ছারখার দিল্লির ফার্নিচার মার্কেট! দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগে দমকলে জনতা-হামলা, রণক্ষেত্র শাস্ত্রী পার্ক

রাজ্যে মহিলাদের জন্য নিখরচায় বাস সফর চালু, শিয়ালদহ রোজগার মেলা এবং টলিউডের ইম্পা-র অন্দরে সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের অসুস্থতার উত্তেজনার মাঝেই, দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে এক বিধ্বংসী ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে এল। উত্তর-পূর্ব দিল্লির শাস্ত্রী পার্ক এলাকায় অবস্থিত একটি নামী ফার্নিচার মার্কেটে শনিবার ভোরে এই ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটে। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সারিবদ্ধভাবে থাকা একের পর এক বহু আসবাবপত্রের দোকান। এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানির খবর না মিললেও, ভস্মীভূত দোকানগুলির বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আগুন নেভানোর কাজের মাঝেই, ঘটনাস্থলে দমকলের গাড়ি দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা দমকলের ইঞ্জিনে ইট-পাথর ছুড়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ, যা পরিস্থিতিকে আরও রণক্ষেত্রের রূপ দেয়।
চিন সফরে ইলন মাস্কের ওপর ছদ্মবেশী চিনা জেনারেলের নজরদারি এবং কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর ঝটিকা সফরের আন্তর্জাতিক আবহের মধ্যেই, রাজধানীর বুকে এই মেগা অগ্নিকাণ্ড ও জনতা-পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
দাহ্য পদার্থের জেরে দ্রুত ছড়াল আগুন, পুড়ল বহু দোকান
শাস্ত্রী পার্কের স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে যখন বাজারের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ ছিল, ঠিক তখনই একটি আসবাবপত্রের দোকান থেকে প্রথম আগুনের শিখা বেরোতে দেখা যায়। ফার্নিচার মার্কেট হওয়ায় দোকানগুলিতে প্রচুর পরিমাণে শুকনো কাঠ, প্লাইউড, ফোম, রেক্সিন এবং কুশন তৈরির স্পঞ্জ মজুত ছিল। এই সমস্ত দাহ্য পদার্থ থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন মারাত্মক রূপ ধারণ করে এবং একের পর এক পাশের দোকানগুলিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা বাজার এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং দাউদাউ আগুনের লেলিহান শিখা দূর-দূরান্ত থেকেও দৃশ্যমান হতে থাকে।
দেরিতে আসার অভিযোগে দমকলে ইটবৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণে পুলিশ
ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগুন লাগার খবর পাওয়ার দীর্ঘক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের প্রথম কয়েকটি ইঞ্জিন। ততক্ষণে আগুনের গ্রাসে চলে গেছে একাধিক দোকান। দমকলের এই গড়িমসি ও দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত জনতা। উত্তেজিত ভিড় আচমকা দমকলের ইঞ্জিনের ওপর চড়াও হয় এবং গাড়ি লক্ষ্য করে দেদার ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে। ইটবৃষ্টির জেরে দমকলের গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং ব্যাহত হয় আগুন নেভানোর প্রাথমিক কাজ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF)। পুলিশ লাঠিহাতে তাড়া করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দমকল কর্মীদের সুরক্ষার সাথে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করে দেয়।
২৫টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় সকালের দিকে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি
পুলিশের সুরক্ষাকবচ পাওয়ার পর আগুন নেভানোর কাজে গতি বাড়ায় দমকল বাহিনী। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, ধাপে ধাপে দমকলের মোট ২৫টি ইঞ্জিনকে ঘটনাস্থলে নামাতে হয়। দমকল কর্মীদের কয়েক ঘণ্টার অক্লান্ত ও যুদ্ধকালীন তৎপরতার পর শনিবার ভোরের দিকে শাস্ত্রী পার্ক ফার্নিচার মার্কেটের এই বিধ্বংসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
দমকলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলেও পকেট ফায়ার বা ভেতরের পকেটগুলিতে লুকিয়ে থাকা আগুন পেষণ করতে সকালের পর থেকেই যুদ্ধকালীন গতিতে ‘কুলিং প্রসেস’ বা শীতলীকরণের কাজ শুরু করা হয়েছে। শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুন লেগেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ ও দমকলের বিশেষ ফরেনসিক দল।
