দাড়িভিট আন্দোলনের সেই লড়াকু মুখই এবার রাজ্যের কনিষ্ঠতম মন্ত্রী, ইতিহাস গড়লেন ৩২ বছরের বিরাজ বিশ্বাস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলায় বিজেপির প্রথম ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজ্যের কনিষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে আন্দোলনের ময়দান পেরিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার এই অভাবনীয় যাত্রা এখন গেরুয়া শিবিরের অন্দরে বিশেষ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সোমবার লোকভবনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে নতুন ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নেন। রাজ্যপাল আরএন রবি তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি এবং জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণকে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ।
সংঘের স্বয়ংসেবক থেকে দাড়িভিটের লড়াকু নায়ক
করণদিঘির এই তরুণ বিধায়কের রাজনৈতিক উত্থান দীর্ঘ দিনের সাংগঠনিক কাজ এবং আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদে (এবিভিপি) যোগ দেন এবং রাজ্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব সামলান। এরপর অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সর্বভারতীয় সম্পাদক হিসেবেও কাজ করার সুযোগ পান, যেখানে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল।
তবে বিরাজ বিশ্বাসের রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরে যায় দাড়িভিট আন্দোলনের সময়। উত্তর দিনাজপুরের সেই তীব্র আন্দোলনে তিনি অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। শাসকবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল। সেই প্রতিকূল সময় থেকেই উত্তরবঙ্গের তরুণ ও লড়াকু নেতৃত্বের মধ্যে তিনি এক আলাদা পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
নির্বাচনী সাফল্য ও আগামীর প্রভাব
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে করণদিঘি কেন্দ্র থেকে তরুণ বিরাজের ওপর আস্থা রেখে তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের এই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, ভোটের ফলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। করণদিঘির অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতা গৌতম পালকে প্রায় ২০ হাজার ভোটে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন বিরাজ। এই বিশাল জয় উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির এক বড় প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার স্পষ্ট বার্তা দিতেই বিজেপি বিরাজ বিশ্বাসের মতো লড়াকু নেতাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দিয়েছে। বিরাজের এই মন্ত্রী হওয়া উত্তরবঙ্গের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দলের প্রতি যুবসমাজের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
বিরাজের মন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই করণদিঘি এলাকায় ব্যাপক উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদী যে, এলাকার একজন তরুণ প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ায় দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত ও প্রশাসনিক দাবি এবার দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে নতুন গতি আসবে। ছাত্র রাজনীতি, আন্দোলন, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং নির্বাচনী সাফল্য পেরিয়ে করণদিঘির এই তরুণ নেতার কাঁধে এবার রাজ্যের এক বড় প্রশাসনিক দায়িত্ব এসে পড়ল।
