দান করা দেহ নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য! নড়েচড়ে বসল মানবাধিকার কমিশন, তলব কেন্দ্রের রিপোর্ট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: চিকিৎসা-শিক্ষায় ব্যবহৃত দানের মৃতদেহ বা ‘ক্যাডাভার’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গেল দেশজুড়ে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। দেহদাতার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার দাবিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) তলব করেছে কমিশন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে তাদের পদক্ষেপের বিস্তারিত জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
সম্প্রতি কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরের ‘দ্য অশ্লীল শো’-এর একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিতর্কের ঝড় ওঠে। ওই শো-তে দর্শকাসনে থাকা এক এমবিবিএস পড়ুয়াকে অ্যানাটমি ক্লাসে ব্যবহৃত ক্যাডাভার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। অভিযোগ, সেই ছাত্রী পুরুষ ক্যাডাভারের শারীরিক গঠন নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে চিকিৎসক, মেডিক্যাল পড়ুয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণ:
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, চিকিৎসা-শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যবহৃত ক্যাডাভার কেবল একটি দেহ নয়, বরং এটি দেহদাতার মানবিক অবদানের প্রতীক। যাঁরা নিঃস্বার্থে চিকিৎসা-বিজ্ঞানের স্বার্থে নিজের বা প্রিয়জনের দেহ দান করেন, তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। কমিশনের মতে, এ ধরনের মন্তব্য কেবল অনৈতিকই নয়, এটি দেহদানের মতো মহৎ উদ্যোগকেও সামাজিকভাবে আসাম্মান করে।
চিকিৎসক মহলের প্রতিক্রিয়া:
‘ইউনাইটেড ডক্টর্স ফ্রন্ট’ (UDF)-এর অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন এই পদক্ষেপ করেছে। চিকিৎসক সংগঠনগুলির মতে, জনপ্রিয়তার নেশায় এ ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করলে ভবিষ্যতে দেহদানের মতো মানবিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের বিশ্বাস ও আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই এই ধরনের কুরুচিকর আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
মানবাধিকার কমিশনের এই সক্রিয়তাকে স্বাগত জানিয়ে চিকিৎসক মহল জানিয়েছে, মৃত্যুর পরেও মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা একটি মৌলিক অধিকার। তাই দেহদাতাদের আসাম্মান করার প্রবণতা রুখতে সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।
