দাপুটে নেতা থেকে ভিজে বেড়াল, জাহাঙ্গিরকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গুণ্ডা ও দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করতে পুলিশ এবার নতুন কৌশল নিয়েছে। যার সর্বশেষ নজির মিলল ফলতার একসময়ের ত্রাস তথা পরাজিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের ক্ষেত্রে। অপরাধের পুনর্নিমাণ করতে গিয়ে দেখা গেল, একদা দাপুটে এই নেতাকে স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপে রীতিমতো ভিজে বিড়াল হয়ে গিয়েছেন তিনি।
হাফপ্যান্ট মডেলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা
গত ৮ মে নেপাল সীমান্ত থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর জালে ধরা পড়েন ফলতার ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত জাহাঙ্গির খান। বেশ কিছুদিন গা ঢাকা দেওয়ার পর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। এরপর উত্তর হাওড়ার রাস্তায় তাকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ঘোরানোর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তবে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে এবং গুণ্ডা ও দুর্নীতিবাজদের মনোবল ভাঙতে পুলিশ প্রশাসন এই বিশেষ কৌশল বা ‘হাফপ্যান্ট মডেল’কে হাতিয়ার করছে। এর আগে কাঁচরাপাড়া পুরসভার যুব তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ রায় ওরফে বনি, কাউন্সিলর স্বামী শামিম আহমেদ এবং এক হোমগার্ডকেও ঠিক একইভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে ও সাধারণ পোশাক পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটের ময়দান থেকে নাটকীয়ভাবে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির। মূলত ভোটকে কেন্দ্র করে এলাকায় সন্ত্রাস তৈরি এবং বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কাজের সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছিল। পরবর্তীতে তার পলাতক জীবন এবং গ্রেফতারি রাজ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের এই ধরনের কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ অপরাধীদের মনে যেমন ভয় তৈরি করছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা ফেরাতে সাহায্য করছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা বাহুবলীদের এই ধরনের পতন আগামী দিনে এলাকায় অপরাধমূলক কাজকর্ম ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
