লেটেস্ট নিউজ

দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে, সর্বনিম্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ভোগ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে: সমীক্ষা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: সরকারের লক্ষ্যভিত্তিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রভাবে দেশে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে সমাজের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকা ৫ থেকে ১০ শতাংশ মানুষের ভোগ্যপণ্যের ব্যয়ে দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪-২৫-এ এই তথ্য জানানো হয়েছে। সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে ভর্তুকি, পেনশন, সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর (DBT) এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় সরকারি ব্যয়ের ফলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। এই পদক্ষেপগুলি সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশকে অভাবের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছে। সাম্প্রতিক হাউসহোল্ড কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার সার্ভে (HCES) ২০২৩-২৪ থেকে জানা গেছে যে, ভোগব্যয়ের বৈষম্য কমেছে এবং সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়েছে।

প্রান্তিক মানুষের আর্থিক ক্ষমতায়ন

সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে গ্রামীণ ও শহুরে উভয় অঞ্চলেই সর্বনিম্ন ৫ থেকে ১০ শতাংশ জনসংখ্যার মধ্যে মাসিক মাথাপিছু ব্যয়ের (MPCE) হার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি সরকারি নীতিগুলির সাফল্যের প্রমাণ দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে দুর্বল শ্রেণিকে বের করে আনতে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে, যা দারিদ্র্য হ্রাসের বিভিন্ন সূচকে প্রতিফলিত হচ্ছে।” মূলত ভর্তুকি, সামাজিক সুরক্ষা এবং জনপরিষেবায় সরকারি লগ্নি আয়ের বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন

সমীক্ষায় গ্রামীণ ভারতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করে স্থানীয় সুযোগ এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির গতি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, “গ্রামীণ সমাজ নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারে, উন্নত স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে এবং আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষা করতে পারে।” সামাজিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে গোষ্ঠীগত অংশগ্রহণ এবং তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সমীক্ষার মাধ্যমে সঠিক হস্তক্ষেপের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *