দার্জিলিংয়ে বার্বিকিউ বিপর্যয়: তরুণীকে আগুনে ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় মালিক-সহ গ্রেপ্তার ৪! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 19, 20265:48 pm
দার্জিলিং: উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি গ্রাম সিটংয়ের এক হোমস্টেতে বার্বিকিউ করতে গিয়ে পর্যটক বধূর আগুনে ঝলসে যাওয়ার ঘটনায় জোর আলোড়ন ছড়াল। এই নারকীয় ঘটনায় শেষ পর্যন্ত হোমস্টের মালিক এবং আগুনে কেরোসিন ঢালা অভিযুক্ত যুবক-সহ মোট চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে কার্শিয়াং থানার পুলিশ।
ধৃতদের পরিচয়: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—
- নেহাল আইরন: হোমস্টের মালিক
- পবন কুমার আগরওয়াল: মালিকের বাবা
- দীপেন লামা: হোমস্টের কর্মী (যিনি বার্বিকিউয়ের বন্দোবস্ত করেছিলেন)
- নাসিরুদ্দিন: আগুন বাড়াতে কেরোসিন ঢালার দায়ে অভিযুক্ত যুবক (উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা)
ঠিক কী ঘটেছিল? গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে সিটংয়ের ওই হোমস্টেতে বার্বিকিউ করার সময় হঠাৎই আগুনের আঁচে রাসায়নিক বা কেরোসিন ঢেলে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে দপ করে আগুন জ্বলে উঠে অগ্নিদগ্ধ হন নববিবাহিতা পর্যটক নিকিতা সাহা। যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকা স্ত্রীকে বাঁচাতে নিজের গেঞ্জি খুলে আপ্রাণ চেষ্টা চালান স্বামী সৌভিক দাস। সম্প্রতি ঘটনার শিউরে ওঠার মতো একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
অভিযোগ ও ক্ষোভ: আহত তরুণীর স্বামী সৌভিক দাসের অভিযোগ, হোমস্টে কর্তৃপক্ষের পরিষেবা অত্যন্ত খারাপ ছিল। কোনো দক্ষ লোক না রেখে একজন অপ্রশিক্ষিত যুবককে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল। শুধু তা-ই নয়, ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও কোনো সহযোগিতা করেনি হোমস্টে কর্তৃপক্ষ।
হোমস্টে মালিকের সাফাই: অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে হোমস্টের মালিক নেহাল দাবি করেছেন, ওই দম্পতিকে আগুনের খুব কাছে বসতে নিষেধ করা হয়েছিল। খাবার অর্ডার নেওয়ার পর কর্মী দূরে গেলে, দম্পতিই নাকি সেখানে কাজ করতে আসা এক মিস্ত্রির ছেলেকে ডেকে আগুনের আঁচ বাড়িয়ে দিতে বলেন।
ঘটনায় কার্শিয়াং থানা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে চার জনকেই গ্রেপ্তার করেছে। পাহাড়ের হোমস্টেগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
