দিদির দরজায় কেন সেদিন শুয়ে পড়েননি দেবাংশু! ফাঁস করলেন বিস্ফোরক সত্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরে ভাঙনের সুর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। একের পর এক হেভিওয়েট নেতা ও সাংসদরা দল ছেড়ে নতুন ব্লক তৈরি করছেন অথবা এনডিএ-তে যোগ দিচ্ছেন। সদ্য এই দলবদলুদের তালিকায় কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যুক্ত হতেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, দলের বর্তমান এই শোচনীয় অবস্থার জন্য বিগত দিনের ভুল নীতি এবং সুযোগসন্ধানীদের অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেওয়াই দায়ী।
পুরনো ভুলের মাসুল গুনছে দল
সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি দীর্ঘ পোস্টে দেবাংশু স্পষ্ট জানিয়েছেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীনেশ ত্রিবেদীর মতো নেতাদের গুরুত্ব দিতে গিয়ে দল বারবার তাপস রায়, সজল ঘোষ বা অর্জুন সিংয়ের মতো নেতাদের বঞ্চিত করেছে। আজ তাপস রায় বা অর্জুন সিংরা অন্য শিবিরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বা পদে আসীন, অন্যদিকে যাদের জন্য এঁদের কোণঠাসা করা হয়েছিল, সেই সুদীপ বা পার্থ ভৌমিকরা এখন নিজেরাই দলত্যাগ করেছেন। দেবাংশুর মতে, ২০১৯ সাল থেকে দল কোনো শিক্ষা নেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে দল যদি পুনরায় ক্ষমতায় ফেরে, তবে আবারও এই সুবিধাবাদীরাই প্রথম সারিতে জায়গা পাবেন এবং রাজত্ব করবেন বলে তাঁর আশঙ্কা।
নীতিগত সিদ্ধান্তের নামে কণ্ঠরোধের অভিযোগ
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলত্যাগীদের পুনরায় দলে ফেরানোর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন দেবাংশু। সেসময় তিনি প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছিলেন, বেইমানরা ফিরলে দিদির দরজায় শুয়ে তাদের আটকাবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কেন তিনি সেদিন প্রতিবাদ করেননি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে দেবাংশু জানিয়েছেন, দলকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও ‘পলিসি ডিসিশন’ বা নীতিগত সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব সেদিন তাঁর মুখ বন্ধ করে দিয়েছিল। বিপদের দিনে দল ছাড়লেও সুসময়ে যে অনায়াসে ফিরে এসে নেতা হওয়া যায়, একুশের নির্বাচনে জয়ের পর শীর্ষ নেতৃত্বের এই মনোভাবের কারণেই সেই বার্তা দলের সর্বস্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। অতীতের সেই ভুল নীতির কারণেই আজ তৃণমূলের অন্দরে এই চরম শৃঙ্খলাহীনতা ও ভাঙনের রূপ প্রকট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
