দিনের আলো বিক্রি করে রাতের বেতন! আমেরিকার শিফট নিয়ে মুখ খুললেন পুণের যুবক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পারিবারিক ও সামাজিক জীবন হারিয়ে দিবা-রাত্রির ভারসাম্যহীন জীবন! মার্কিন শিফটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকারের গল্প
ভারতের আইটি এবং পরিষেবা খাতের লাখ লাখ কর্মীর কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করা এখন এক নতুন জীবনধারা। পুণের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সায়ক রায়ের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, রাত ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই নাইট শিফটের চাকরিতে যেমন রয়েছে উচ্চ বেতন ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি, তেমনই রয়েছে স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবনের চরম ঝুঁকি। এই পেশাদার জীবনযাত্রার সুবিধা ও অসুবিধার অসামঞ্জস্যতা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আর্থিক প্রাপ্তি ও ব্যক্তিগত ক্ষতির সমীকরণ
চাকরিজীবীদের মতে, নাইট শিফটে কাজের বড় সুবিধা হলো উচ্চ বেতন এবং বাড়তি শিফট অ্যালাউন্স। এর পাশাপাশি মার্কিন করপোরেট সংস্কৃতির সুবাদে কর্মক্ষেত্রে কাজের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং পকেটের টাকা বা কাজের খাতিরে ছুটির প্রয়োজন ছাড়াই দিনের বেলায় সরকারি বা ব্যাংকিং কাজগুলো সেরে নেওয়া সম্ভব হয়। এছাড়া বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কাজ করার ফলে পেশাদার দক্ষতা ও যোগাযোগ ক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তবে এই চকচকে সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে শারীরিক ও মানসিক অবক্ষয়ের এক দীর্ঘ তালিকা।
প্রকৃতির নিয়ম ভেঙে রাতের বেলা জাগরণ পালনের ফলে ঘুমের মান ভয়াবহভাবে কমে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতা এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। সবচেয়ে বড় কষ্টের জায়গাটি হলো সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। যখন প্রিয়জনরা জেগে ওঠে, তখন কর্মীকে ঘুমাতে যেতে হয়, যার ফলে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়ে। দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা এবং একাকিত্ব শেষ পর্যন্ত মানসিক বিষণ্ণতা ও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
