দিল্লিতে বাঙালি অধ্যাপিকার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, খুনের নেপথ্যে কি কোনো পরিচিত মুখ? – এবেলা

দিল্লিতে বাঙালি অধ্যাপিকার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, খুনের নেপথ্যে কি কোনো পরিচিত মুখ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবস্মিতা পালের (৪৯) রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব দিল্লির একটি ফ্ল্যাটে একা থাকতেন এই বাঙালি শিক্ষাবিদ। দীর্ঘক্ষণ ফোনে সাড়া না পেয়ে তাঁর বোন দেবারতি পাল ফ্ল্যাটে গিয়ে বাইরে থেকে তালাবন্ধ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে বিছানার ওপর দেবস্মিতার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা স্পষ্টতই একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।

তদন্তে পরিচিতর দিকেই সন্দেহের তির

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফ্ল্যাটের মূল দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ থাকলেও ভেতরের কোনো দরজা বা জানালা ভাঙার লক্ষণ মেলেনি। আলমারি বা ঘরের জিনিসপত্রও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, যা চুরির উদ্দেশ্যে ডাকাতির সম্ভাবনাকে অনেকাংশে নাকচ করে দেয়। জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশের কোনো প্রমাণ না থাকায় তদন্তকারীদের ধারণা, আততায়ী দেবস্মিতার পূর্বপরিচিত এবং সম্ভবত তাঁর অনুমতি নিয়েই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছিল। অপরাধ সংঘটিত করার পর খুনি বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়, যাতে ঘটনাটি সহজে জানাজানি না হয়।

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দিল্লির শিক্ষামহলে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একজন মেধাবী ও জনপ্রিয় অধ্যাপিকার এমন আকস্মিক ও নৃশংস পরিণতিতে শিবাজী কলেজের সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একা থাকা কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ফ্ল্যাটের চারপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দেবস্মিতার কল রেকর্ড অ্যানালিসিস করে তাঁর শেষ দিনগুলোর যোগাযোগকারীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *