দিল্লিতে মহানাটকের আবহ, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পথে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোকসভার নতুন অধিবেশন শুরুর আগেই পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলটির ১৯ জন সাংসদের সই করা একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। দলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ অংশটি এখন দিল্লির পথে। নতুন এই শিবিরের অন্যতম নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, বিক্ষুব্ধ সাংসদের সংখ্যা ২০ নয়, বরং ২২ জন। ফলে আরও দুজন সাংসদ এই শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
দিল্লির দরবারে নতুন রণকৌশল
সূত্রের খবর, সোমবারই লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদরা। সেখানে নিজেদের আলাদা ব্লক হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানানো হতে পারে। অন্য একটি সম্ভাবনা অনুযায়ী, নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে লোকসভার দলনেতা পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে। একই সঙ্গে মুখ্য সচেতক হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুরনো পদ পুনর্বহালের আর্জি জানানো এবং সংসদের বসার আসন বিরোধী শিবির থেকে সরিয়ে এনডিএ জোটের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার দাবি তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। সোমবারের চূড়ান্ত পদক্ষেপের আগে রবিবার রাতে দিল্লিতে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া বৈঠক ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষই এই বিদ্রোহের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন দেব, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায় ও মালা রায়ের মতো হেভিওয়েট ও তারকা সাংসদরা। এই ভাঙন যদি সত্যি রূপ নেয়, তবে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
