দিল্লি-এনসিআর জুড়ে হু-হু করে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, জ্বর-কাশির সাথে এই ৫ লক্ষণ দেখলেই সাবধান! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা / দিল্লি: বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার সুযোগে রাজধানী ও সংলগ্ন এনসিআর (Delhi-NCR) অঞ্চলে হঠাৎ করেই জাঁকিয়ে বসেছে সোয়াইন ফ্লু বা H1N1 ভাইরাস। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল (NCDC)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে সংক্রমণের গতি প্রায় ৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে! গত বছর এই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২ঐ জন, আর চলতি বছরের ১২ অগস্টের মধ্যেই দিল্লিতে তা ১,৪৪৯ জন ছাড়িয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় বড় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি ও শয্যা বরাদ্দ শুরু হয়েছে।
সাধারণত সোয়াইন ফ্লুর প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর, সর্দি-কাশি, গায়ে ব্যথা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। কিন্তু সংক্রমণ গভীর হলে রোগীর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে ফুসফুস মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কোন ৫টি লক্ষণ দেখলেই অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
১. বিশ্রাম নেওয়া সত্ত্বেও শ্বাসকষ্ট: শুয়ে বা বসে থাকা অবস্থাতেও যদি হঠাৎ বুক চেপে আসে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবে বুঝতে হবে ভাইরাস ফুসফুসে থাবা বসিয়েছে। অনবরত কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট নিউমোনিয়ার সঙ্কেত হতে পারে। ২. অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া: শরীরে সঠিক পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহে বাধা দেয় H1N1। স্পন্দন বা পালস অক্সিমিটারে যদি অক্সিজেনের মাত্রা (SpO2) ৯০%-এর নিচে নেমে যায়, তবে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন দেওয়া প্রয়োজন। ৩. বুকে তীব্র ব্যথা ও ঠোঁট নীল হওয়া: বুকে অস্বস্তি, তীব্র চাপ বা ব্যথা অনুভব হওয়া ভাইরাসের গভীর সংক্রমণের লক্ষণ। এছাড়া ঠোঁট বা মুখমণ্ডল নীলচে হওয়া মানে শরীরে অক্সিজেনের চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ৪. কথা বলতে অসুবিধা ও মানসিক বিভ্রান্তি: শ্বাসকষ্টের কারণে স্বাভাবিক হাঁটাচলা বা কথা বলা বন্ধ হওয়া, সঙ্গে অতিরিক্ত ঝিমুনি, মাথা ঘোরা বা মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো জরুরি। ৫. সুস্থ হওয়ার পর আচমকা অবস্থার অবনতি: প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর হঠাৎ আবার তীব্র জ্বর বা শ্বাসকষ্ট ফিরে আসা বড় বিপদের লক্ষণ। এটি ফ্লু পরবর্তী ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা নিউমোনিয়ার সংকেত।
এই পরিস্থিতিতে কী করবেন এবং কী করবেন না?
- অ্যান্টিবায়োটিক এড়িয়ে চলুন: সোয়াইন ফ্লু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মনগড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
- প্রয়োজনে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ: ঝুঁকিপূর্ণ ও আশঙ্কাজনক রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়া উচিত।
- সতর্কতামূলক অভ্যাস: বাইরে বেরোলে মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত স্যানিটাইজ করা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢাকা এবং জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলা জরুরি।
- ফ্লু ভ্যাকসিন: প্রবীণ বা আগে থেকেই ফুসফুস-হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আগে থেকেই ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু ভ্যাকসিন (Influenza Vaccine) নিয়ে রাখতে পারেন।
