দিল্লি সামলান আগে, শাহকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মণিপুর ইস্যুতে আক্রমণ শানালেন মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মহারণের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। হুগলির জনসভা থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। শাহের বারবার বাংলা সফরকে কটাক্ষ করে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত বাংলার ভোটের রাজনীতিতে সময় নষ্ট না করে অশান্ত মণিপুরের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া।
মণিপুর ইস্যুতে কেন্দ্রকে বিঁধলেন নেত্রী
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, যখন মণিপুরে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি জ্বলছে এবং অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে শান্তি ফেরানোর বদলে বাংলায় পড়ে আছেন। তিনি সাফ জানান, দিল্লির নেতাদের উচিত আগে নিজেদের ঘর সামলানো, তারপর বাংলাকে জ্ঞান দিতে আসা। মমতার এই ‘মণিপুর বাণ’ জাতীয় রাজনীতির ব্যর্থতাকে বাংলার নির্বাচনী ময়দানে টেনে এনে বিজেপিকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বহিরাগত তত্ত্ব ও আঞ্চলিক আবেগ
নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে মমতা আরও একবার ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে শান দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লি থেকে নেতারা এসে বাংলার শান্তি ও সংস্কৃতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছেন। বাংলার মানুষ যে ‘ঘরের মেয়ে’কেই চায়, সেই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আঞ্চলিক আবেগকে উসকে দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই মুখ্যমন্ত্রী এখন ভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা করছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সংঘাতের প্রেক্ষাপট
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের এই সন্ধিক্ষণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে তৃণমূল নেত্রী নিজের কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করতে চাইছেন। এই পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যকার সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংঘাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে এই আক্রমণাত্মক প্রচার এবং জাতীয় ইস্যুগুলোর প্রভাব কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- হুগলির সভা থেকে অমিত শাহের বাংলা সফরকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই মণিপুরের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি।
- দিল্লি থেকে আসা নেতাদের ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে বাংলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
- বিজেপি এই মন্তব্যকে হারের ভয় এবং মূল ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা বলে পাল্টা দাবি করেছে।
