দীর্ঘ ৯ বছর পর চীন সফরে ট্রাম্প, জিনপিংয়ের সাথে মহাগুরুত্বপূর্ণ বৈঠক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ নয় বছরের বিরতি ভেঙে অবশেষে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন সরকারের উপ-প্রেস সচিব আন্না কেলি এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এই সফরের আনুষ্ঠানিক সূচি নিশ্চিত করেছে। আগামী বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পের বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বৈশ্বিক সংকটের মুখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
ট্রাম্পের এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে বহুমুখী সংকট বিরাজমান। বিশেষ করে আমেরিকা-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে দুই পরাশক্তির এই বৈঠককে বিশেষ নজরে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনের প্রচেষ্টাও এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা
সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বেইজিংয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হবে এবং এরপরই তিনি শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। শুক্রবার দুই নেতা আবারও চা-চক্র এবং মধ্যাহ্নভোজের আড়ালে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেবেন। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শুল্ক ও বাণিজ্যিক জটিলতা নিরসনে একটি বড় ধরনের চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাম্পের সফরের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ফিরতি সফরের প্রস্তুতি
এই সফরের মাধ্যমেই দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই বছরের শেষের দিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও যুক্তরাষ্ট্রে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। যদি এই শীর্ষ সম্মেলন সফল হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুল্ক নীতি এবং প্রতিরক্ষা ইস্যুতে দুই দেশ শেষ পর্যন্ত কতটা ছাড় দেবে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই সফরের প্রকৃত সাফল্য।
