দেবীর মুখে রহস্যময় শাড়ির ছাপ! আড়িয়াদহের চট্টোপাধ্যায় বাড়ির অলৌকিক দুর্গোৎসব

দেবীর মুখে রহস্যময় শাড়ির ছাপ! আড়িয়াদহের চট্টোপাধ্যায় বাড়ির অলৌকিক দুর্গোৎসব

সন্ধিপুজোর ঠিক আগে হঠাৎ মণ্ডপে হাজির শাড়ি পরা এক কুমারী মেয়ে। মুহূর্তের মধ্যে কর্পূরের মতো মিলিয়ে গেলেও সে রেখে যায় অলৌকিক এক চিহ্ন। দেবীর মুখমণ্ডলে স্পষ্ট ফুটে ওঠে তার শাড়ির আঁচলের ছাপ। এই দৃশ্যকে মায়ের লীলা মনে করে সন্ধিপুজো স্থগিত রেখে শুরু হয় ‘কল্যাণী পুজো’। বরানগরের আড়িয়াদহের প্রাচীন চট্টোপাধ্যায় পরিবারের এই পুজো ঘিরে রয়েছে শত শত বছরের ঐতিহ্য। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাপণ্ডিত রাঘবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে ১৬৭০ খ্রিস্টাব্দে সূচিত এই পুজো প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো ইতিহাসের সাক্ষী।

মধ্যরাতে নূপুরের আওয়াজ কিংবা সুগন্ধি হাওয়ার রহস্যময় উপস্থিতি এ বাড়ির নিত্যদিনের ঘটনা। অতীতে বর্গী হানায় দুর্গাদালান তছনছ হলেও দেবীর অলৌকিক কৃপায় বেঁচে যায় এই বংশের পুজো। আজও ‘দুর্গাতরঙ্গিনী’ পুঁথি মেনে ও পুরোনো ঐতিহ্য বজায় রেখে নিয়মনিষ্ঠভাবে হয় মায়ের আরাধনা। ভোগে ইলিশ মাছ থেকে পলতা পাতার শুক্তো—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে প্রাচীন আভিজাত্যের ছোঁয়া। ২০১০ সাল থেকে বলিপ্রথা বন্ধ থাকলেও ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিমুহূর্তে দেবীমূর্তির জীবন্ত উপস্থিতি অনুভব করেন পরিবারের সদস্যরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *