দেশপ্রেম নাকি ভালোবাসা বড়! বিশ্বকাপে শত্রু দেশের হয়ে গলা ফাটিয়ে তীব্র বিতর্কে জাস্টিন ট্রুডো – এবেলা

দেশপ্রেম নাকি ভালোবাসা বড়! বিশ্বকাপে শত্রু দেশের হয়ে গলা ফাটিয়ে তীব্র বিতর্কে জাস্টিন ট্রুডো – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চলতি ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন এক নজিরবিহীন বিতর্কে জড়ালেন কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। রাজনৈতিক বৈরিতাকে একপাশে সরিয়ে রেখে নিজের দেশের পরিবর্তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। মার্কিন পপতারকা কেটি পেরির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের টানে নিজের জন্মভূমির ম্যাচ বাদ দিয়ে আমেরিকার জয়ের জন্য গ্যালারিতে গলা ফাটিয়েছেন ট্রুডো, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।

প্রেমের টান বনাম কূটনৈতিক তিক্ততা

ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর থেকেই আমেরিকা ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে তীব্র তিক্ততা তৈরি হয়েছে। এমনকি কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম প্রদেশ হিসেবে দাবি করে তা অধিগ্রহণের হুঙ্কারও দিয়েছেন ট্রাম্প। এমন এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে দুই দেশ। তবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নিজের দেশের গ্যালারিতে দেখা যায়নি ট্রুডোকে। লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেমিকা কেটি পেরির পারফরম্যান্সের পর গ্যালারিতে তাঁদের প্রকাশ্য চুম্বন এবং পরবর্তীতে মার্কিন ফুটবল দলকে সমর্থন করার বিষয়টিই এই বিতর্কের মূল কারণ। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে আমেরিকার ৪-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ট্রুডোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে উল্লাস করতে দেখা যায়, যেখানে বসনিয়ার বিরুদ্ধে কানাডার প্রথম ম্যাচটি ড্রয়ে থমকে ছিল।

সমালোচনার ঝড় ও রাজনৈতিক প্রভাব

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রুডোর তীব্র সমালোচনা শুরু হলে তিনি এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি দিয়ে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে মাঝে মাঝে প্রেমিক হিসেবেও কর্তব্য পালন করতে হয়, তবে মনে মনে তিনি কানাডাকেই সমর্থন করছেন। এই বিবৃতিতে কানাডার জাতীয় পতাকা ব্যবহার করলেও জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের আবহে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রকাশ্য আচরণ কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রুডোর ভাবমূর্তি বড় সংকটে ফেলতে পারে। একই সাথে এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জাতীয়তাবাদী আবেগকে আরও উস্কে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *