দেশের মাটিতেই হোক ছুটি কাটানো, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আর্জি

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ১০ মে এক বিশেষ বার্তায় তিনি ভারতীয়দের আপাতত বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং প্রমোদভ্রমণের জন্য বিদেশের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে বেছে নেওয়ার জন্য কাতর আর্জি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রেকর্ড হারে বাড়ছে বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতা
রাষ্ট্রপুঞ্জের পর্যটন বিভাগের ২০২৫ সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতীয়রা বিদেশ ভ্রমণে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন, যা ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। এই মুহূর্তে চীন ও আমেরিকার পরেই ভারতীয়রা বিশ্বের অন্যতম বড় খরুচে পর্যটক হিসেবে উঠে এসেছেন। প্রক্ষেপণ বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এই খরচের পরিমাণ ৮৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই বিপুল পরিমাণ ডলার দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ভারতের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় এবং টাকার মূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অর্থনীতি রক্ষায় জীবনযাত্রায় বদলের ডাক
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধনের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো—
- দেশীয় পর্যটন: বিদেশের বদলে দেশের পর্যটন কেন্দ্র এবং ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর জন্য ভারতের মাটিকেই বেছে নেওয়া।
- জ্বালানি সাশ্রয়: অপ্রয়োজনে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে মেট্রো বা গণপরিবহন ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা।
- বিলাসিতা বর্জন: এই সংকটকালে অপ্রয়োজনীয় সোনা ও রুপো কেনা থেকে বিরত থাকা।
একদিকে তেলের বিপুল আমদানি বিল, অন্যদিকে বিদেশ ভ্রমণে ডলারের বহির্গমন—এই দ্বিমুখী চাপ সামলাতেই দেশবাসীকে ‘জাতীয় দায়িত্ব’ পালনের এই আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আর্জি দেশীয় পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
