ধরমশালায় রোহিতের অনন্য কীর্তির দিনে টিম গেমেই আফগানদের উড়িয়ে দিল ভারত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বৃষ্টিবিঘ্নিত ধরমশালার সবুজ গালিচায় আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ম্লান হয়ে গেল ভারতের নিখুঁত টিম গেমের কাছে। অধিনায়ক শুভমান গিলের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং দুই নবাগত বোলারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে শুভসূচনা করল টিম ইন্ডিয়া। একদিকে শুভমানের অধিনায়কোচিত ইনিংস আর অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সে ওয়ানডে ক্রিকেটে রোহিত শর্মার নতুন ইতিহাস গড়ার দিনে সহজ জয় তুলে নিল ভারত।
বৃষ্টির দাপট ও গুরবাজের তাণ্ডব
শনিবার দুপুরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরু হতে চার ঘণ্টা বিলম্ব হয়। ফলে ৫০ ওভারের ম্যাচ নামিয়ে আনা হয় ২৫ ওভারে। টস জিতে প্রতিপক্ষকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া দুই ভারতীয় বোলার গুরনূর ব্রার ও হর্ষ দুবে শুরুতেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও অন্য প্রান্ত ঝড় তোলেন আফগান উইকেটকিপার-ব্যাটার রহমানুল্লাহ গুরবাজ। মাত্র ৪৮ বলে ৮টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ১০২ রানের একটি মারকুটে ইনিংস খেলেন তিনি। তবে অধিনায়ক হসমতউল্লাহ শাহিদির ২৭ এবং ওমরজাইয়ের ২৬ রান ছাড়া বাকি ব্যাটাররা ব্যর্থ হওয়ায় নির্ধারিত ২৫ ওভারে ১৯৪ রানেই থমকে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস। ভারতের হয়ে অভিষেকেই বাজিমাত করে গুরনূর ও হর্ষ দুজনেই ৩টি করে উইকেট নেন।
রোহিতের ইতিহাস ও শুভমানের ফিনিশিং
১৯৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েন রোহিত শর্মা। ৩৯ বছর ৭৫ দিন বয়সে মাঠে নেমে মহিন্দর অমরনাথের রেকর্ড ভেঙে ভারতের পুরুষ ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক ওয়ানডে ক্রিকেটার হওয়ার নজির গড়েন তিনি। রোহিত ১৬ রানে রান আউট হলেও ভারতের ইনিংসে কোনো বিপর্যয় আসেনি। দ্বিতীয় উইকেটে ঈশান কিষানের (৩৪) সঙ্গে ৭০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন অধিনায়ক শুভমান গিল। শেষ দিকে কেএল রাহুল ১৯ বলে ৩৯ রানের ক্যামিও খেললে ১৩ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ৬৬ বলে ৮৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন গিল।
গুরবাজের একক নৈপুণ্যের বিপরীতে ভারতের সম্মিলিত বোলিং আক্রমণ এবং টপ অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের কারণেই মূলত ম্যাচটি আফগানদের হাত থেকে ফসকে যায়। এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত, যা বাকি ম্যাচগুলোর জন্য স্বাগতিকদের মানসিক স্বস্তি দেবে।
