‘ধরেই সোজা বর্ডারে পাঠান, কোর্টে নয়!’ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে পুলিশ-RPF-কে কড়া নির্দেশ শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অনুপ্রবেশ রুখতে এবার সরাসরি পুশব্যাকের কড়া বার্তা শুভেন্দুর!
রাজ্যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে এক অভূতপূর্ব ও কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার এক জনসমক্ষে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এখন থেকে ধরা পড়া অনুপ্রবেশকারীদের আর আদালতে পাঠিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে জড়ানো হবে না। পরিবর্তে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী তাদের সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে দ্রুত পুশব্যাক বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কার্যকর শুরু হয়েছে।
আইনি জটিলতা এড়াতে নতুন কৌশল
মুখ্যমন্ত্রী হাওড়া স্টেশনের উদাহরণ টেনে রেলওয়ে পুলিশ (আরপিএফ) এবং পুলিশ কমিশনারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, হাওড়া স্টেশন বা সংলগ্ন এলাকা থেকে যদি এমন কোনো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েন যিনি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) আওতায় পড়েন না, তবে তাঁকে যেন কোনোভাবেই আদালতে তোলা না হয়। নিয়মানুযায়ী মানবিক খাতিরে তাঁর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে সরাসরি সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে, যাতে তাঁদের দ্রুত সীমান্ত পার করে দেওয়া সম্ভব হয়।
ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিরোধী পক্ষ ও সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ ছিল যে, অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে তোলার পর আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাঁরা ভারতেই থেকে যান এবং এক সময় ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করে নেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন রণকৌশল অনুপ্রবেশের আইনি জট যেমন নিমেষে কাটFull দেবে, তেমনই সীমান্তে কড়া নজরদারি বজায় রাখতে বিএসএফ-এর ওপর চাপ ও দায়িত্ব দুই-ই বাড়িয়ে দেবে। তবে এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রোটোকল ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো নতুন বিতর্ক তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- অনুপ্রবেশকারীদের আর আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি বিএসএফ-এর বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) পাঠানোর নতুন আইন কার্যকর হয়েছে।
- সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-র আওতায় না পড়া অবৈধ বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেই কেবল এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
- পুলিশ কমিশনার ও আরপিএফ-কে আইনি দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে হাওড়া স্টেশন থেকে ধৃতদের সরাসরি সীমান্তে পাঠানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- মানবিক কারণে ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের খাওয়া-দাওয়ার সুব্যবস্থা করে তারপর সীমান্ত পার করার কথা বলা হয়েছে।
