নজিরবিহীন প্রশাসনিক সংকটে পশ্চিমবঙ্গ, শনিবারের আগে কার হাতে রাজ্যের রাশ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও অভাবনীয় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা অকার্যকর ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পনেরো বছরের শাসনের অবসান ঘটলেও, রীতি অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ না করায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত নির্বাচনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তী সরকার গঠন পর্যন্ত রাজ্যপাল তাঁকে ‘কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করায় রাজ্যপালের সামনে সেই আইনি পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক শূন্যতা
ভারতে সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী রাজ্যপাল হলেন সাংবিধানিক প্রধান এবং মুখ্যমন্ত্রী হলেন প্রশাসনিক প্রধান। প্রশাসনিক প্রধানের পদ শূন্য থাকলে স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে প্রশ্ন উঠেছে, এই মুহূর্তে রাজ্যের চালিকাশক্তি কে? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনও জারি হয়নি, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে এক প্রকার বাধ্য হয়েই রাজ্যপাল এন রবি সরাসরি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনের লিখিত নির্দেশিকা প্রয়োজন ছিল, যা এখনও অনুপস্থিত।
শনিবার পর্যন্ত অনিশ্চিত যাত্রাপথ
আগামী শনিবার সকাল দশটায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত রয়েছে। সেই মুহূর্ত পর্যন্ত রাজ্যে কোনো নির্বাচিত প্রশাসনিক প্রধান থাকছেন না। এই অন্তর্বর্তী সময়ে পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি অস্পষ্টতা থেকে যাচ্ছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতো অন্য রাজ্যের জয়ী মুখ্যমন্ত্রীরা যেখানে নিয়ম মেনে পদত্যাগ করে পুনরায় দায়িত্বভার গ্রহণের অপেক্ষায় আছেন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতিকে ভারতের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে এক ‘বিচিত্র’ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে রাজ্যে নজিরবিহীন প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
- বিধানসভা অকার্যকর ঘোষণার ফলে বর্তমান সরকারের আইনি মেয়াদের অবসান ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতেই।
- রাষ্ট্রপতি শাসন জারি না হলেও শনিবার নতুন সরকারের শপথ পর্যন্ত রাজ্যপালই কার্যত প্রশাসনের দেখভাল করছেন।
- যথাযথ বিজ্ঞপ্তি বা কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী না থাকায় রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের আইনি অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে।
