নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, নিটের প্রশ্ন ফাঁস এড়াতে এবার নামছে সেনা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডাক্তারির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশজুড়ে বাড়তে থাকা প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা এবং সাম্প্রতিক নানা কেলেঙ্কারির আবহে পরীক্ষার সম্পূর্ণ সুরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে। সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঠিক হয়েছে যে, প্রশ্নপত্র ছাপা থেকে শুরু করে তা নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র ও গোপন স্থানে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় নজরদারি চালাবে সেনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারও এই কাজে ব্যবহার করা হবে।
ব্যর্থতার জের ও নজিরবিহীন সংঘাত
সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে চলমান তীব্র বিতর্কের মাঝেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে এল। সিবিএসই-র মূল্যায়নে গোলমালের জেরে ইতিমধ্যে প্রায় ১৮ লাখ পরীক্ষার্থী ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন রাজনৈতিক মহল সরব হয়েছে, তেমনই সরকারের অন্দরেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রশাসনিক দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ায় এই সিদ্ধান্তকে প্রকারান্তরে পরীক্ষা পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সরকারের একপ্রকার অসহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার নজির হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিগত কয়েক বছরে একের পর এক সর্বভারতীয় বোর্ডের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সিবিএসই মূল্যায়ন কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী নিলেও তাঁর পদত্যাগের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে বিরোধীরা লাগাতার চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ২১ জুনের নিট পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র ও বিতর্কহীন রাখাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রতিরক্ষা ও শিক্ষা মন্ত্রকের এই যৌথ সিদ্ধান্তের ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সিভিল প্রশাসন ও শিক্ষা সংক্রান্ত একটি পরীক্ষায় সেনাবাহিনীর এই সরাসরি অংশগ্রহণ আগামী দিনে দেশের পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও পরিকাঠামোগত দক্ষতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিল।
