নথিতে কাল্পনিক জন্মতারিখ, নাগরিকত্বের আবেদন খারিজ করল হাই কোর্ট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে গুয়াহাটি হাই কোর্টের রায়ে বড়সড় ধাক্কা খেলেন আসামের এক মুসলিম মহিলা। এর আগে বিদেশি ট্রাইব্যুনালও ওই মহিলাকে ভারতীয় হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছিল। ট্রাইব্যুনালের সেই পুরনো রায় বহাল রেখে উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্য বা দাবির ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তি তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করতে পারেন না। নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ত্রুটিহীন ও গ্রহণযোগ্য নথিগত প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক।
নথিতে নজিরবিহীন ভুল ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল ২০০৬ সালে, যখন আসামের দরং জেলার পুলিশ সুপার ওই মহিলার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিষয়টি বিদেশি ট্রাইব্যুনালে পাঠান। নিজেকে ভারতীয় দাবি করে ওই মহিলা ৯টি নথি ও বেশ কয়েকজন সাক্ষী পেশ করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, তিনি ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকায় থাকা আকাশ আলি নামের এক ব্যক্তির বংশধর।
তবে শুনানির সময় মহিলার দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে একটি নজিরবিহীন ও অস্বাভাবিক বিষয় আদালতের নজরে আসে। জমা দেওয়া নথিতে মহিলার জন্মতারিখ উল্লেখ ছিল ‘৩০.০২.১৯৯০’। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার মেধি এবং বিচারপতি প্রাঞ্জল দাসের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারি মাসে কখনও ৩০ দিন হওয়া সম্ভব নয়। ফলে এই কাল্পনিক জন্মতারিখ নথির নির্ভরযোগ্যতাকে পুরোপুরি অবৈধ ও প্রশ্নসাপেক্ষ করে তুলেছে।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
মহিলা তাঁর দাবির সপক্ষে ১৯৯৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা নূর ইসলাম ও জহুরাকে নিজের বাবা-মা বলে দাবি করেন। পাশাপাশি তাঁর দাদু আকাশ আলির নাম পরবর্তী ভোটার তালিকায় আবু বক্কর নামে নথিভুক্ত হয়েছিল বলে যুক্তি দেন। কিন্তু আদালত এই দাবি খারিজ করে জানায়, নামের মিল বা মুখের কথায় নাগরিকত্বের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। ভোটার তালিকা বা অন্য কোনও নথি জমা দিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না, বরং তার সত্যতা এবং উৎসও আইনগতভাবে প্রমাণ করতে হয়।
এই রায়ের ফলে আসামে নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে নথিপত্রের নিখুঁত যাচাইকরণ ও আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি আরও কঠোর রূপ নিল। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক তথ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া নাগরিকত্বের আবেদন করলে তা যে কোনও মুহূর্তে খারিজ হতে পারে, এই রায় তা পুনরায় প্রমাণ করল। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে কোনও আইনি ত্রুটি নেই বলে জানিয়ে মহিলার আবেদনটি খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত।
