নথি জাল আর তোলাবাজির অভিযোগে শ্রীঘরে সিঙ্গুর আন্দোলনের নেতা মানিক দাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ঐতিহাসিক সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মানিক দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতারণা, নথি জালিয়াতি এবং চাকরি দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বেচারাম মান্নার অত্যন্ত ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত। এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে ইতিমিধ্যেই হুগলি জেলাসহ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের পাহাড় ও গ্রেপ্তারি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের একটি পুরনো মামলার ভিত্তিতে সিঙ্গুর থানার পুলিশ মানিক দাসকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, সরকারি ও বেসরকারি নথি জাল করা এবং সেই জাল নথিকে আসল হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার জাল বিছানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বাম আমলের অবসানের পর রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় এলে এলাকায় মানিক দাসের প্রভাব ও প্রতিপত্তি একচেটিয়াভাবে বৃদ্ধি পায়। তিনি হুগলি জেলা পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত সদস্য ও জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদে আসীন। এর আগেই চন্দননগর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল, অবশেষে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই গ্রেপ্তারি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই দুর্নীতি দমনে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দুর্নীতি ও তোলাবাজির মতো বিষয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে। এই পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক বিরোধী শিবিরের প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক ও প্রভাবশালী নেতারা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে খাঁচাবন্দি হচ্ছেন। সিঙ্গুরের মতো স্পর্শকাতর ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার একজন শীর্ষ আন্দোলনকারী নেতার এই পতন স্থানীয় স্তরে শাসক দলের অবস্থানকে যেমন মজবুত করছে, তেমনই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
