নদীতে মাদকের বিস্তার! বিপন্ন স্যামন মাছের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের রহস্য উন্মোচন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সুইডেনের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জলজ প্রাণীদের ওপর মানুষের ব্যবহৃত মাদকের বিধ্বংসী প্রভাবের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নদী ও হ্রদের জলতে মিশে থাকা কোকেনের অবশিষ্টাংশ স্যামন মাছের জীবনচক্র ও আচরণকে মারাত্মকভাবে বদলে দিচ্ছে। ২০২২ সালে পরিবেশ বিজ্ঞানী জ্যাক ব্র্যান্ডের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, জলতে মিশে থাকা মাদকের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশও জলজ বাস্তুসংস্থানের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।
আচরণগত পরিবর্তন ও অস্বাভাবিক সক্রিয়তা
গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে কোকেন ও এর উপজাত ‘বেনজোইলেকগোনিন’ প্রয়োগ করে দেখা গেছে, আক্রান্ত মাছগুলো সাধারণ মাছের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুতগতিতে সাঁতার কাটছে এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রম করছে। মজার বিষয় হলো, মূল কোকেনের চেয়ে এর অবশিষ্টাংশ মাছের মস্তিষ্কে বেশি উত্তেজনা তৈরি করছে। এই অস্বাভাবিক সক্রিয়তা মাছগুলোকে এক ধরণের নিরবচ্ছিন্ন ‘হাইড’ অবস্থায় রাখছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, এই মাদকাসক্তি কেবল মাছের আচরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অতিরিক্ত শক্তি ব্যয়ের কারণে স্যামন মাছগুলো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা তাদের শিকারি প্রাণীদের সহজ লক্ষ্যে পরিণত করছে। এছাড়া জলতে মিশে থাকা বিষণ্ণতা দূর করার ওষুধ বা ব্যথানাশক উপাদান মাছের প্রজনন ক্ষমতা ও আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে প্রচলিত বর্জ্য জল শোধন ব্যবস্থা (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) এই সুক্ষ্ম রাসায়নিক উপাদানগুলো দূর করতে সক্ষম নয়, যা বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্যের জন্য এক নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- সুইডেনের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় স্যামন মাছের শরীরে কোকেনের উপস্থিতি ও আসক্তির প্রমাণ মিলেছে।
- মাদক মিশ্রিত জলর প্রভাবে মাছগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উত্তেজিত ও অতি-সক্রিয় হয়ে উঠছে।
- এই আচরণগত পরিবর্তন মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং খাদ্যশৃঙ্খলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে।
- বর্তমান জল শোধন পদ্ধতি জলতে মিশে থাকা ওষুধের ক্ষুদ্র অবশিষ্টাংশ সরাতে ব্যর্থ হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
