নদীর বুকে সাক্ষাৎ যম, একরত্তি পিরানহার কামড়ে নিমেষে শেষ হতে পারে মানুষের জীবন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য মাছ হলেও, প্রকৃতির বুকে এমন এক মাছের অস্তিত্ব রয়েছে যা মানুষের ভয়ের অন্যতম কারণ। দক্ষিণ আমেরিকার নদীগুলোতে বাস করা এই মাছটির নাম পিরানহা। দেখতে অনেকটা সাধারণ ভোলা মাছের মতো শান্ত প্রকৃতির মনে হলেও, এদের আক্রমণের তীব্রতা অত্যন্ত ভয়ানক। আকারে হাতের মুঠোয় ধরে যাওয়ার মতো ছোট হলেও, দলবদ্ধ শক্তির কারণে এরা নদী অববাহিকার অন্যতম প্রধান শিকারী হিসেবে পরিচিত।
ব্লেডের মতো দাঁত ও শক্ত চোয়ালের মারাত্মক শক্তি
পিরানহার প্রধান অস্ত্র হলো এদের মুখের ভেতরে থাকা হাজার হাজার সূক্ষ্ম এবং ব্লেডের মতো ধারালো দাঁত। এদের চোয়াল এতটাই শক্তিশালী যে, একবার কোনো শিকারের শরীরের অংশ কামড়ে ধরলে তা হাড়সমেত কেটে আলাদা হয়ে যায়, তবুও কামড় আলগা হয় না। জলের ভেতরের সূক্ষ্ম কম্পন বা ভাইব্রেশন অনুভব করে এরা নিখুঁতভাবে শিকারের অবস্থান নির্ণয় করতে পারে। সাধারণত খাদ্যের অভাব না হলে বা নিজেদের বিপন্ন মনে না করলে এরা আক্রমণ করে না। তবে শিকার করার সিদ্ধান্ত নিলে কোনো সময় নষ্ট না করে মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণ হানে, যার ফলে আক্রান্ত প্রাণীর আত্মরক্ষার কোনো সুযোগ থাকে না।
দলবদ্ধ আক্রমণ ও বাস্তুতন্ত্রে সংকটের প্রভাব
পিরানহা সাধারণত দলবেঁধে বা ঝাঁক বেঁধে নদীপথে চলাচল করে। এককভাবে নয়, বরং দলবদ্ধ আক্রমণের মাধ্যমেই এরা নিজেদের চেয়ে প্রায় দশগুণ বড় আকারের প্রাণীকে অনায়াসে ধরাশায়ী করতে পারে। চারপাশ থেকে ছেঁকে ধরে আক্রমণ করার কারণে এদের কবল থেকে বেঁচে ফেরা যেকোনো প্রাণীর পক্ষেই আসাম্ভব হয়ে পড়ে। মাংসাশী হিসেবে কুখ্যাতি থাকলেও এরা মূলত সর্বভুক এবং জলজ উদ্ভিদ, ফল ও পোকা খেয়েও জীবনধারণ করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদী ও জলাশয়গুলোতে ক্রমবর্ধমান দূষণের কারণে এই মারাত্মক মাছটির অস্তিত্বও সংকটের মুখে পড়েছে। মানুষের তৈরি দূষণে নদী কলুষিত হওয়ায় পিরানহাদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে প্রকৃতির এই ভয়ংকর শিকারীও এখন ধীরে ধীরে কোণঠাঁসা হয়ে বিলুপ্তির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
