নবান্নের ক্ষমতায় কে? ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও নিশ্ছিদ্র পাহারায় দুর্ভেদ্য দুর্গে ভোটগণনার প্রস্তুতি!

নবান্নের ক্ষমতায় কে? ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও নিশ্ছিদ্র পাহারায় দুর্ভেদ্য দুর্গে ভোটগণনার প্রস্তুতি!

রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বহুল প্রতীক্ষিত ফলাফল। শেষ হাসি কে হাসবেন এবং নবান্নের মসনদ কার দখলে যাবে—সেই প্রশ্ন এখন তুঙ্গে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোটগণনা সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ইভিএম ও ভিভিপ্যাটে বন্দি জনমতের প্রতিফলন যেন শান্তিপূর্ণভাবে ঘটে, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রকে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে নির্বাচন কমিশন। সিসিটিভি ক্যামেরা ও কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে স্ট্রংরুমগুলো।

ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় ও কড়া নজরদারি

শান্তিপূর্ণ গণনা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রেই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। প্রথম স্তরে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী, দ্বিতীয় স্তরে সশস্ত্র পুলিশ এবং বাইরের অংশে রাজ্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, ফলে যেকোনো ধরনের জমায়েত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ভবানীপুর থেকে শুরু করে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বা চুঁচুড়া এইচআইটি কলেজ—সবখানেই মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি এবং সিসিটিভির মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা নিয়মিত বিরতিতে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করছেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

ভোট গণনার আগে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই চূড়ান্ত সতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক নজরদারি জোরদার করতে জেলাগুলোতে শীর্ষ নেতাদের পাঠানো হচ্ছে। গণনার কৌশল নির্ধারণে বহরমপুরে পৌঁছেছেন সুখেন্দু শেখর রায় ও প্রতীক উর রহমানের মতো নেতারা। অন্যদিকে, গণনাকেন্দ্রের বাইরে বিজেপি ও তৃণমূলের এজেন্টরা নিরবচ্ছিন্ন পাহারায় বসে আছেন। দিকে দিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ চলায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সুষ্ঠুভাবে গণনা সম্পন্ন হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াবে, তবে গণনার পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা এড়ানোই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *