নবান্নে কী কথা হয়েছিল? শুভেন্দু-ফিরহাদ বৈঠকের পরেই কেন উল্টে গেল সমীকরণ! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা দেওয়ার জল্পনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের করা দাবির সঙ্গে বর্তমান ঘটনাপ্রবাহের বিস্তর অমিল মেয়রের পদত্যাগের সম্ভাবনাকে ঘিরে বড়সড় ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। গত বুধবার কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন যে, কাজের পরিবেশ না থাকায় ফিরহাদ হাকিম খোদ দলনেত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে এই বক্তব্যের ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
ঘটনাপ্রবাহের অমিল ও নবান্নের সমীকরণ
কুণাল ঘোষের দাবি অনুযায়ী পরিস্থিতি না এগিয়ে উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। মেয়র পদত্যাগের বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। এর পাশাপাশি, গত বুধবার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতি এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক তাঁকে ‘মেয়র সাহেব’ বলে সম্বোধন করা এই জল্পনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কালীঘাটের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেও নবান্নের প্রশাসনিক সভায় ফিরহাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনৈতিক মহলে নতুন গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।
পুরসভার সক্রিয়তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
ইস্তফার জল্পনার মাঝেই পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্মে মেয়রের স্বাভাবিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে ডেকে দীর্ঘ আলোচনার পর, আজ পরিবেশ দিবসের কর্মসূচিতেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে। এমনকি পুর কমিশনার প্রোটোকল ভেঙে মেয়রের বাসভবনের সামনে এসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। কিছুদিন আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থাকে পুরসভার নোটিস পাঠানো নিয়ে কমিশনারের সঙ্গে মেয়রের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, বর্তমানের এই ঘনিষ্ঠতা তার বিপরীত মেরুকে নির্দেশ করছে।
এই টানাপোড়েনের ফলে কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। মেয়রের পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় থাকলে নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং নবান্নের সঙ্গে মেয়রের সমীকরণ আগামী দিনে কোন দিকে ঘোরে, তার ওপরই নির্ভর করছে কলকাতার পুর-প্রশাসনের ভবিষ্যৎ।
