নবান্নে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক, দুর্নীতি ও অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নবান্নে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম এই প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কড়া সমালোচনা শোনা যায় তাঁর কণ্ঠে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমনে তাঁর সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
দুর্নীতি দমনে সিবিআইকে বিশেষ ছাড়পত্র
প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সিবিআই-এর চারটি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘকাল আটকে রাখা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। এদিন তিনটি দপ্তরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া এবং প্রসিকিউশনের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সিবিআই-কে প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এর ফল দেখা যাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মূলে কুঠারাঘাত করাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
কৃষকদের স্বস্তি ও অবৈধ কারখানায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে অন্য রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আন্তঃরাজ্য সীমানায় কৃষিজ ও প্রাণীজ পণ্য সরবরাহে আর কোনও বাধা দেওয়া হবে না। অন্যদিকে তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নবান্ন। তদন্ত রিপোর্টে ওই কারখানার কোনও বৈধ প্ল্যান না থাকায় বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ নির্মাণ ও কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য কলকাতা পুরসভাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকে এই বিষয়ে আরও কিছু বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
