নবান্নে শুভেন্দু সরকারের দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠক, নজর বকেয়া ডিএ ও সপ্তম পে কমিশনে – এবেলা

নবান্নে শুভেন্দু সরকারের দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠক, নজর বকেয়া ডিএ ও সপ্তম পে কমিশনে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। প্রথম বৈঠকের রেশ টেনেই এই দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন সংশোধন, বকেয়া ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশন চালুর মতো বিষয়গুলি এই বৈঠকের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্পষ্ট করেছিলেন যে, দ্বিতীয় বৈঠকে আর জি কর কাণ্ড, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমন এবং সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অর্থনৈতিক দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি, রাজ্যে প্রশাসনিক সংস্কার আনা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের বিষয়ে সরকার কী ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে, তার একটি রূপরেখাও আজ স্পষ্ট হতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা ও ডিএ জট

বিগত সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এক বিশাল অঙ্কের বকেয়া ডিএ এখনও অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর সরকারি কর্মী সংগঠনগুলির আশা, এই বকেয়া সমস্যা সমাধানে বর্তমান ক্যাবিনেট ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থ দপ্তর সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদানের পাশাপাশি কর্মচারীদের সামগ্রিক বেতনের পরিকাঠামো নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু করেছে নতুন সরকার। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালুর বিষয়েও এই বৈঠকে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে, যা কার্যকর হলে কর্মচারীদের বেতন একধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক রূপরেখা

প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর করা, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানো এবং ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করার মতো একাধিক জনমুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শুভেন্দু সরকার। আজকের বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের বাকি প্রকল্পগুলিকে রাজ্যে দ্রুত বাস্তবায়িত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। এছাড়া, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ-এর সঙ্গে জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত জটিলতা কাটানোর জন্য আজই মুখ্যমন্ত্রীর একটি পৃথক বৈঠক করার কথা রয়েছে। একদিকে নারী সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির মেলবন্ধনে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন তরান্বিত করাই এখন নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *