নব্বই পেরিয়েও অধরা সোনালী ট্রফি, ফুটবল বিশ্বকাপের রাজত্ব মাত্র আট দেশের হাতেই! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ফুটবলকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মাটিতে প্রথম বল গড়ানোর পর থেকে দীর্ঘ ৯৬ বছরের ইতিহাস পার করেছে ফিফা বিশ্বকাপ। প্রতি চার বছর অন্তর বিশ্বসেরা হওয়ার এই লড়াইয়ে মেতে ওঠে কোটি কোটি মানুষ। ভারতেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো দলের কোটি কোটি সমর্থক রয়েছেন। তবে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা আকাশচুম্বী হলেও বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করতে পেরেছে মাত্র আটটি দেশ।
শীর্ষে ব্রাজিলের সাম্বা জাদু, ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ইউরোপীয় শক্তি
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল। ফুটবল সম্রাট পেলে থেকে শুরু করে রোনাল্ডো, রোনাল্ডিনহোর দেশ সেলেকাওরা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচ বার (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২) বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে ব্রাজিলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ইউরোপের দুই হেভিওয়েট জার্মানি ও ইতালি। দুই দেশই চার বার করে সোনালী ট্রফি ঘরে তুলেছে। জার্মানি জিতেছে ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে। অন্যদিকে ইতালি শিরোপার স্বাদ পেয়েছে ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ সালে।
তিন তারকার আর্জেন্টিনা ও অন্যান্যদের খতিয়ান
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এই তালিকায় তিন বার শিরোপা জিতে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালের পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন লিওনেল মেসি। এছাড়া ফ্রান্স ও ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী উরুগুয়ে জিতেছে দুই বার করে। ফ্রান্সের ঘরে ট্রফি আসে ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে, আর উরুগুয়ে জিতেছিল ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড (১৯৬৬) এবং স্পেন (২০১০) মাত্র এক বার করে বিশ্বসেরা হওয়ার স্বাদ পেয়েছে।
অভিজাত ক্লাবের আধিপত্যের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বিশ্বকাপের এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোগত ও ঐতিহ্যগত আধিপত্য বজায় রয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের এই আটটি দেশের শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতি, উন্নত একাডেমি ব্যবস্থা এবং ঘরোয়া লিগের মানই তাদের বারবার শীর্ষে নিয়ে গেছে। এর ফলে অন্যান্য মহাদেশের বা নতুন দলগুলোর জন্য এই দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে ভেঙে ট্রফি জেতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ২০২৬ সালের চলমান বিশ্বকাপে নতুন কোনো পরাশক্তির উত্থান ঘটে নাকি ব্রাজিলের রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকে, সেই সমীকরণের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব ফুটবল।
