নাইজারের বিমানবন্দরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় রক্তস্রোত! প্রশ্নের মুখে দেশের নিরাপত্তা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামে অবস্থিত দিয়োরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২২ জন জঙ্গি, ১১ জন সেনাকর্মী এবং ২ জন সাধারণ নাগরিক। আল কায়দার শাখা গোষ্ঠী ‘জেএনআইএম’ ইতিমধ্যেই এই বর্বরোচিত হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি ও বাস্তব চিত্র
নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে এই হামলা রুখে দিয়েছে এবং বৃহত্তর ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দরে এই মাত্রার অনুপ্রবেশ ও হামলা নাইজারের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতিকেই চিহ্নিত করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বছর তিনেক আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বাজৌমকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদুরাহমানে চিয়ানি শাসনভার গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক এই পটপরিবর্তন ও গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকে দেশটিতে যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো মূলত সেই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছে।
সন্ত্রাসের আধিপত্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রতিবেশী মালি ও বুরকিনা ফাসোর মতোই নাইজারও এখন ক্রমাগত আল-কায়দা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ছায়া গোষ্ঠীগুলোর নিশানায় পরিণত হয়েছে। এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে জেএনআইএম এবং আইএসএসপি-র মতো সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে, যা গত এপ্রিলেই পারস্পরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছিল। এর আগে জানুয়ারি মাসেও ‘ইসলামিক স্টেট ইন দ্য সাহেল’-এর ভয়াবহ হামলার সাক্ষী হয়েছিল নাইজার। লাগাতার এই সন্ত্রাসী তৎপরতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সমগ্র অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
