নিজের মেয়েকেই বিয়ে করা পাষণ্ড পিতা! সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক, ডিএনএ রিপোর্টে ফাঁস আসল সত্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০১৮ সালে ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ট্র্যাভিস ফিল্ডগ্রোভ নামের এক আমেরিকান ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন যে তিনি তার নিজের মেয়ে সামান্থাকে বিয়ে করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। সামান্থা ১৭ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো তার বাবার দেখা পেয়েছিলেন, কিন্তু মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে সেই সম্পর্ক এক বিকৃত রূপ নেয় যা জনমনে ব্যাপক ঘৃণার জন্ম দেয়।
ডিএনএ পরীক্ষায় উন্মোচিত সত্য
রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে অবৈধ হওয়ায় পুলিশ ট্র্যাভিসকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে নিজেদের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে তারা দাবি করেছিলেন যে তাদের মধ্যে কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। তবে আধুনিক বিজ্ঞান ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে ট্র্যাভিসই সামান্থার প্রকৃত জৈবিক পিতা। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাকে নিজ মেয়ের ওপর যৌন নিপীড়ন এবং অবৈধ সম্পর্কের দায়ে কঠোর শাস্তির নির্দেশ দেয়। ট্র্যাভিসের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন ও জালিয়াতিসহ দীর্ঘ অপরাধের তালিকা রয়েছে।
অভিশপ্ত অতীত পেরিয়ে সামান্থার নতুন জীবন
কারাগারে বন্দি ট্র্যাভিসের সাথে সামান্থা বর্তমানে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও সামাজিক গ্লানি কাটিয়ে সামান্থা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। নেব্রাস্কার একটি নিভৃত গ্রামে নিজের সন্তান ও হবু স্বামীর সাথে বসবাস করছেন তিনি। গত বছর এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায় পেছনে ফেলে তিনি আগামী বছর নতুন করে সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন।
এক ঝলকে
- ২০১৮ সালে নিজের মেয়েকে বিয়ে করার দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দেন আমেরিকান নাগরিক ট্র্যাভিস ফিল্ডগ্রোভ।
- ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সামান্থার সাথে ট্র্যাভিসের বাবা-মেয়ের রক্তের সম্পর্ক বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়।
- ইনসেস্ট বা অজাচার এবং যৌন নির্যাতনের দায়ে ট্র্যাভিসকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।
- বর্তমানে কারাবন্দি ট্র্যাভিসের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুনভাবে জীবন গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী সামান্থা।
