নিট-ইউজি ২০২৬ বাতিল, দেশজুড়ে জালিয়াত চক্রের পর্দাফাঁস! – এবেলা

নিট-ইউজি ২০২৬ বাতিল, দেশজুড়ে জালিয়াত চক্রের পর্দাফাঁস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তোলপাড় দেশ। তদন্তে নেমে এক বিশাল আন্তঃরাজ্য চক্রের হদিস পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মহারাষ্ট্রের নাসিক, উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন এবং বিহারের রাজগীর থেকে একের পর এক গ্রেপ্তারিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র। এই বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA), যার ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন দেশের ২২ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী।

সক্রিয় ছিল আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক

তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, প্রশ্ন ফাঁসের এই মরণফাঁদ মহারাষ্ট্র, কেরালা, হরিয়ানা, বিহার, রাজস্থান এবং উত্তরাখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই চক্রে প্রশ্নপত্র সমাধানকারী, জাল পরীক্ষার্থী, কোচিং সেন্টারের কাউন্সিলর এমনকি এমবিবিএস ছাত্ররাও জড়িত ছিল। রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) জানিয়েছে, নাসিকের একটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া শুভম খৈরনার নামে এক মেডিক্যাল ছাত্র সেই ‘গেস পেপার’-এর হার্ড কপি সংগ্রহ করে পরে তা হরিয়ানার এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিল বলে অভিযোগ।

অর্থের বিনিময়ে মিলত প্রশ্নপত্র

তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের মূল হোতা ছিল রাজস্থানের সিকারের বাসিন্দা রাকেশ কুমার, যাকে দেরাদুন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্যারিয়ার কাউন্সিলর হিসেবে পরিচিত রাকেশ কেরালা থেকে ৪১০টি প্রশ্নের একটি ব্যাঙ্ক পেয়েছিল, যার মধ্যে ১৫০টি প্রশ্নই ছিল আসল নিট পরীক্ষার হুবহু অনুকরণ। হাতে লেখা এই প্রশ্নপত্রগুলো ৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে শেষ সময়ে মাত্র ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। পরীক্ষায় জীববিজ্ঞান এবং রসায়ন বিভাগের ১২০টি প্রশ্ন হুবহু মিলে যাওয়ায় জালিয়াতির বিষয়টি অকাট্য প্রমাণিত হয়েছে।

বিহার ও রাজস্থানে উদ্ধার বিপুল অর্থ

বিহারের রাজগীরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ দুটি সন্দেহভাজন গাড়ি থেকে বিপুল নগদ টাকা ও একাধিক পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড উদ্ধার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিন ব্যক্তির মধ্যে একজন নিজেকে এমবিবিএস ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। অন্যদিকে, সিকার ও ঝুনঝুনু এলাকা থেকেও জালিয়াতির সাথে যুক্ত ১৩ জন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বাতিল পরীক্ষা, তদন্তে সিবিআই

পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার গোটা বিষয়টি সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছে। এনটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতেই পরীক্ষা বাতিলের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সিবিআই তদন্তের অগ্রগতির পাশাপাশি নতুন পরীক্ষার সূচির দিকে তাকিয়ে আছেন ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *