নিয়ন্ত্রণরেখায় প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভয়ংকর বিস্ফোরণ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ারলিফ্ট করা হচ্ছে ২ জওয়ানকে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) কাছে সেনা প্রশিক্ষণ চলাকালীন একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরের এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় দুই সেনা জওয়ান গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অসাবধানতাবশত গ্রেনেড বিস্ফোরণের ফলেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
আহত দুই জওয়ানের পরিচয় মিলেছে। তাঁরা হলেন বিহার ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক রবীন্দ্র ভেরা এবং অগ্নিবীর শক্তি প্রসাদ। নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি এলাকায় প্রতিদিনের রুটিন প্রশিক্ষণ চলাকালীন দুপুর ১২.৩০ নাগাদ আচমকাই এই জোরালো বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পরপরই সেনা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধারকার্য শুরু করেন। কীভাবে এবং ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
উন্নত চিকিৎসার তোড়জোড় এবং জওয়ানদের বর্তমান পরিস্থিতি
বিস্ফোরণের তীব্রতায় দুই জওয়ানই মারাত্মকভাবে জখম হন। ঘটনার পরেই তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে ভারতীয় সেনার ৪২৫ আর্মি ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জওয়ানদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য এয়ারলিফ্ট করে উধমপুরের নর্দার্ন কমান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
বারবার দুর্ঘটনা এবং সম্ভাব্য প্রভাব
কাশ্মীর সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশিক্ষণ ও অভিযান চলাকালীন এই ধরনের দুর্ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সেনা শিবিরের নিরাপত্তা ও অস্ত্র ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই বারামুলার উরি সেক্টরে রুটিন আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তরের সময় একই রকম হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়। তারও আগে রাজৌরিতে জঙ্গিদমন অভিযান চলাকালীন পা পিছলে খাদে পড়ে প্রাণ হারান এক সেনা কর্মকর্তা।
পরপর এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা জওয়ানদের মানসিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের নিরাপত্তা মহড়ায় আরও বেশি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে ‘অগ্নিবীর’ প্রকল্পের আওতাধীন নতুন রিক্রুটদের কঠিন পরিস্থিতিতে অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল আরও কঠোর করার ওপর এই ঘটনা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
