নিয়ম ভেঙে একাধিক পদ দখল! এবার কি বড় শাস্তির মুখে বাবুন? – এবেলা

নিয়ম ভেঙে একাধিক পদ দখল! এবার কি বড় শাস্তির মুখে বাবুন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

খেলাধুলোয় একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটাতে এবার কড়া পদক্ষেপের পথে বাংলার ক্রীড়া নিয়ামক সংস্থা। নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক শীর্ষ পদ আঁকড়ে রাখার অভিযোগে এবার বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুন। বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) পক্ষ থেকে পদত্যাগের স্পষ্ট নির্দেশিকা পাঠানো সত্ত্বেও তিনি তা অমান্য করেছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমান নিয়মানুযায়ী ক্রীড়া প্রশাসনে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি চালু রয়েছে। অথচ সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় একসঙ্গে রাজ্য বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সচিব, রাজ্য টেবিল টেনিস সংস্থার সভাপতি, রাজ্য হ্যান্ডবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের সচিবের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই বহু পদাধিকারী ব্যক্তিদের পদ ছাড়ার চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থান থেকে সরেননি। যার ফলে বৃহস্পতিবার তাঁকে পুনরায় চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এবারও পদ না ছাড়লে তাঁকে সরাসরি সাসপেন্ড বা বহিষ্কার করা হতে পারে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।

রাজনীতি ও পরিবারতন্ত্র মুক্ত করার তাগিদ

রাজ্যের ক্রীড়াঙ্গনে এই প্রশাসনিক রদবদল ও কড়াকড়ির নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। রাজ্যে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নীশীথ প্রামাণিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ রাজনীতি ও পরিবারতন্ত্রের ছায়া থেকে মুক্ত করা হবে। ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে প্রকৃত ক্রীড়াবিদ ও যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়াই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর এই শুদ্ধিকরণ অভিযানের প্রথম কোপ এসেই পড়েছে প্রাক্তন শাসকদলের প্রভাবশালী পরিবার ও মন্ত্রীদের ওপর।

বাবুনের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুও। তিনি বর্তমানে রাজ্য জুডো অ্যাসোসিয়েশন এবং হকি বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আরেক ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও হরিশ পার্ক ক্লাব এবং হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতি দীর্ঘকাল ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রাখার গুরুতর অভিযোগ ছিল। তবে প্রশাসন সক্রিয় হতেই ইতিমধ্যে সেই ক্লাবটি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্রীড়া সংস্থাগুলোর শীর্ষ পদ দখল করে রাখার ফলেই বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামোর বিকাশ থমকে গিয়েছিল। যোগ্য ক্রীড়া সংগঠকদের পরিবর্তে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আধিপত্যের কারণে ক্রীড়াবিদদের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছিল।

বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে ক্রীড়া প্রশাসনে দীর্ঘদিনের একনায়কতন্ত্র ও স্বজনপোষণের অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর হলে নতুন ও যোগ্য ক্রীড়া সংগঠকরা সামনে আসার সুযোগ পাবেন। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের জেরে আগামী দিনে রাজ্য ক্রীড়া রাজনীতিতে বড়সড় আইনি ও প্রশাসনিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *