নিয়োগ দুর্নীতি রুখতে ওএমআর শিটের কার্বন কপি পাবেন চাকরিপ্রার্থীরা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

নিয়োগ দুর্নীতি রুখতে ওএমআর শিটের কার্বন কপি পাবেন চাকরিপ্রার্থীরা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এখন থেকে যেকোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের ওএমআর (OMR) শিটের কার্বন কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। শিয়ালদহে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত একটি রোজগার মেলা থেকে এই নতুন নিয়মের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিয়োগ নীতিতে এটি একটি বড় ধরনের সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বচ্ছতা ফেরাতে নতুন নিয়োগ নীতি

শিয়ালদহের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেই তিনি এই ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেন। আগে ওএমআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলেও তার কার্বন কপি রেখে দেওয়া হতো। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ওএমআর শিট আটকে রাখার এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়াই স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির মূল উৎস। এই অনিয়ম চিরতরে বন্ধ করতেই সরকার নতুন নিয়োগ নীতি চালু করতে যাচ্ছে। ওএমআর শিটের কার্বন কপি চাকরিপ্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষা, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অ্যাকাডেমিক স্কোর এবং ইন্টারভিউ বা মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ক্ষেত্রেও বড় বদল আনা হচ্ছে। বিশেষ করে, মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর রাখার যে প্রবণতা ছিল, তা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে নতুন সরকার।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিগত বছরগুলোতে সরকারি চাকরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ওএমআর শিট জালিয়াতি এবং নম্বর কারচুপির বহু অভিযোগ সামনে এসেছে। পরীক্ষা দেওয়ার পর নিজের প্রাপ্ত নম্বর যাচাই করার কোনো সুনির্দিষ্ট সুযোগ চাকরিপ্রার্থীদের কাছে ছিল না। এই মূল কারণটিকে চিহ্নিত করেই ওএমআর শিটের কার্বন কপি সরাসরি পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরীক্ষা শেষে নিজেদের কার্বন কপি কাছে থাকায় চাকরিপ্রার্থীরা সহজেই উত্তরপত্রের মূল্যায়ন মেলাতে পারবেন। এতে নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর যেমন জবাবদিহিতা বাড়বে, তেমনই মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন। সামগ্রিকভাবে, এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের এবং চাকরিপ্রার্থীদের হারানো আস্থা পুনরুজ্জীবিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *