নির্বাচনে বাইক চলাচলে কমিশনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হাইকোর্টে কড়া প্রশ্নের মুখে প্রশাসন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বাইক-বাহিনী’ দমনে নির্বাচন কমিশনের জারি করা নজিরবিহীন বিধিনিষেধ এখন আইনি জটিলতার মুখে। সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেল ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলাকালীন কমিশনের যুক্তি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পায়। অবাধ নির্বাচনের দোহাই দিয়ে সাধারণ নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আদালত এদিন কড়া অবস্থান নিয়েছে।
আদালতে আইনি সওয়াল ও বিচারপতির কড়া অবস্থান
শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন যে, বাইক ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানো বা অপরাধমূলক কাজ করার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে বাইকের পিছনে বসা আরোহীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতেই ভোটের অনেক আগে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে বিচারপতি পাল্টা প্রশ্নে জানতে চান, নির্দিষ্ট কোন আইনের ভিত্তিতে শুধুমাত্র বাইককেই নিশানা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সমাজের প্রান্তিক শ্রমিক বা সাধারণ মানুষের অনেকেরই নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র নেই, ফলে কমিশনের নিয়ম তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায় যে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশনের হাতে পর্যাপ্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তাদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে যাতায়াত বন্ধ করা যুক্তিসঙ্গত কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন বিচারপতি। নির্বাচনের দিন কড়াকড়ি স্বাভাবিক হলেও, অনেক আগে থেকে সাধারণ বাইক চালকদের ওপর এমন চাপ তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দীর্ঘ শুনানির পর রায়দান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে যা কমিশনের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই মামলার রায়ের ওপর নির্ভর করছে সাধারণ বাইক চালকদের ভবিষ্যৎ। আদালত যদি কমিশনের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়, তবে নির্বাচন পরিচালনার কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষকে পরিচয়পত্র ও নাকা চেকিংয়ের কড়াকড়ির মধ্যেই যাতায়াত করতে হবে। খুব দ্রুত আদালতের ওয়েবসাইটে এই মামলার চূড়ান্ত রায় আপলোড করা হবে বলে জানা গেছে, যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজ্য।
এক ঝলকে
- ২০২৬ নির্বাচনে বাইক চলাচলে কমিশনের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা।
- অন্য গাড়ির বদলে শুধু বাইকের ওপর কেন বিধিনিষেধ, তা নিয়ে কমিশনকে ভর্ৎসনা বিচারপতির।
- পরিচয়পত্রহীন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত।
- মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
