নীরব বার্নআউটের গ্রাসে আধুনিক জীবন, সাফল্যের পথে বাধা হচ্ছে প্রাত্যহিক ৯টি ভুল অভ্যাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ব্যস্ততম নাগরিক জীবনে ক্লান্তি, কাজের প্রতি অনীহা কিংবা ব্যর্থতার অনুভূতি এখন ঘরে ঘরে। বাহ্যিকভাবে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও অনেকেই ভেতরে ভেতরে তীব্র মানসিক অবসাদ ও শূন্যতায় ভুগছেন, যাকে বর্তমান সময়ে ‘সাইলেন্ট বার্নআউট’ বা নীরব ক্লান্তি বলা হচ্ছে। অধিকাংশ মানুষই এই পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত কাজের চাপ বা দুর্ভাগ্যকে দায়ী করেন। তবে সাম্প্রতিক মনোবৈজ্ঞানিক ও জীবনযাপন বিষয়ক বিশ্লেষণ বলছে, প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট কিছু অসচেতন অভ্যাসই মানুষকে ক্রমান্বয়ে মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক সাফল্যের পথ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।
মানসিক ও শারীরিক শক্তির অপচয়
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখা এবং অবসরে একটানা স্ক্রিন স্ক্রল করার অভ্যাস মানুষের মনোযোগের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। মস্তিষ্ক পুরোপুরি সজাগ হওয়ার আগেই অতিরিক্ত তথ্য ও নেতিবাচক খবরের মুখোমুখি হওয়ায় মানসিক উত্তেজনা বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ধৈর্য ও কাজের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার প্রবণতা এবং অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে দেয় না। ফলে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং সিদ্ধান্তহীনতা মানুষের কর্মদক্ষতা নষ্ট করে দেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শারীরিক কোনো নড়াচড়া ছাড়া বসে কাজ করার ফলেও শরীরে অবসাদ ভর করে, যা নিয়মিত শারীরিক অনুশীলনের অভাবকে প্রকট করে তোলে।
আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিক মাধ্যমের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব
সামাজিক মাধ্যমে অন্যদের কৃত্রিম সাফল্য বা বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করার প্রবণতা আত্মবিশ্বাসকে তলানিতে নিয়ে ঠেকায়। এর ফলে অবচেতন মনে জন্ম নেয় অপূর্ণতার গ্লানি। এর পাশাপাশি সাময়িক আনন্দের খোঁজে ক্ষুধা না থাকা সত্ত্বেও হুটহাট অনলাইন থেকে খাবার অর্ডারের মতো অভ্যাস শুধু যে আর্থিক ক্ষতি করছে তা নয়, বরং লিভার ও হজমের নানাবিধ সমস্যা বাড়িয়ে তুলছে। অন্যদিকে, নিজের কাজের পরিধি নির্ধারণ করতে না পেরে সবাইকে খুশি করার মানসিকতা এবং সব কিছুতেই ‘হ্যাঁ’ বলার প্রবণতা মানুষের নিজস্ব কর্মশক্তি ও মানসিক শান্তি কেড়ে নিচ্ছে।
কর্মবিমুখতা ও নেতিবাচক চিন্তার নেপথ্য কারণ
সময়ে কাজ শেষ না করে ফেলে রাখার প্রবণতা মানুষের মনে প্রতিনিয়ত এক অদৃশ্য চাপ ও দুশ্চিন্তা তৈরি করে, যা পরবর্তীতে নতুন কাজ শুরুর আগ্রহকে নষ্ট করে দেয়। নিজের ক্যারিয়ার ও পরিবারের দায়িত্ব পালনের মাঝে নিজের জন্য কোনো একান্ত সময় না রাখাও এই ক্লান্তির অন্যতম বড় কারণ। একই সঙ্গে সারাক্ষণ ব্যর্থতা ও নেতিবাচক বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে থাকা মনের স্বাভাবিক আনন্দকে বিষণ্ণতায় রূপ দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আত্মঘাতী অভ্যাসগুলো অবিলম্বে পরিবর্তন না করলে কর্মক্ষেত্রে স্থবিরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতা অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
