নীলবাড়ি হাতছাড়া, এবার কি লক্ষ্য ‘ছোট লালবাড়ি’? কলকাতায় পদ্ম-ঝড়ের আশঙ্কায় তৃণমূল

নীলবাড়ি হাতছাড়া, এবার কি লক্ষ্য ‘ছোট লালবাড়ি’? কলকাতায় পদ্ম-ঝড়ের আশঙ্কায় তৃণমূল

রাজ্যের শাসনক্ষমতায় পালাবদল ঘটলেও তিলোত্তমার রাশ এখনো তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে। তবে বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ১৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১১টিতে বিজেপির জয় এবং ১৪৪টি ওয়ার্ডের ১০১টিতে পদ্মশিবিরের লিড ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে প্রবল আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের একাধিপত্যের পর এবার রাজধানীর ‘ছোট লালবাড়ি’ বা কলকাতা পুরসভা হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে কার্যত সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিদায়ী শাসকদল।

ফলের বিশ্লেষণে টালমাটাল তৃণমূল

পরিসংখ্যান বলছে, লোকসভা ও বিধানসভা ভিত্তিক ওয়ার্ডওয়ারি হিসাবে তৃণমূল মাত্র ৪৩টি ওয়ার্ডে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পেরেছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নির্দিষ্ট কিছু এলাকা বাদ দিলে শহরের বাকি অংশে গণক্ষোভের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। দলের প্রবীণ নেতাদের একাংশ মনে করছেন, শুধু সরকার বিরোধী হাওয়া নয়, বরং স্থানীয় স্তরের জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি, সিন্ডিকেটরাজ এবং জলাজমি ভরাট করে বেপরোয়া নির্মাণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। বিশেষ করে কাউন্সিলরদের জীবনযাত্রার মান ও সম্পত্তির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধারণ ভোটারদের তৃণমূল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও সাংগঠনিক ভাঙন

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী হাওড়া, বিধাননগর বা চন্দননগর পুরনিগমগুলোতেও তৃণমূলের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। দলীয় কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে না পারা এবং নিচুতলায় নেতাদের প্রতি অনাস্থা আগামী পুরভোটে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পুলিশের সাহায্য ছাড়া এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে তৃণমূলের পক্ষে নিজেদের দুর্গ রক্ষা করা এখন প্রায় আসাম্ভব। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচন হলে কলকাতার নগর প্রশাসনও যে রাজ্য সরকারের সমান্তরালে বিজেপির দখলে চলে যেতে পারে, সেই সম্ভাবনা এখন প্রবল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *