নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের নজিরবিহীন তোপ, প্রশ্নের মুখে আমেরিকা-ইজরায়েল ভবিষ্যৎ বন্ধুত্ব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ ইজরায়েলের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন এবার একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত জমতে থাকা ক্ষোভের এবার এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটল। মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত একটি বৈঠক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইজরায়েলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের সাফ কথা, আমেরিকা পাশে না থাকলে ইজরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পরও অবশ্য নেতানিয়াহু বা তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পাল্টা কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ক্ষোভের কারণ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য নীতি, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত পরামর্শ উপেক্ষা করে নেতানিয়াহুর একতরফা কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম অসন্তোষ। আমেরিকা বরাবরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইজরায়েলের সবচেয়ে বড় ঢাল হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর কিছু রাজনৈতিক অবস্থান ও যুদ্ধংদেহী মনোভাব মার্কিন স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, আমেরিকার দেওয়া বিলিয়ন ডলারের সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তাকে ইজরায়েল যেন স্রেফ নিজেদের অধিকার বলে ধরে না নেয়, সেই সতর্কবার্তাই দেওয়া হলো।
ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
হোয়াইট হাউসের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আমেরিকার এই পরোক্ষ হুঁশিয়ারি ইজরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিতে পারে। যদি ইজরায়েল তাদের নীতিতে পরিবর্তন না আনে, তবে আগামী দিনে মার্কিন সামরিক সহায়তার পরিমাণের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে, ওয়াশিংটনের এমন দূরত্ব তৈরির সংকেত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শত্রুভাবাপন্ন দেশ ও গোষ্ঠীগুলোকে নতুন করে রণকৌশল সাজানোর সুযোগ করে দিতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
