নেতারা বেপাত্তা, ফোন ধরছেন না! দিশেহারা তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা – এবেলা

নেতারা বেপাত্তা, ফোন ধরছেন না! দিশেহারা তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শীর্ষ নেতৃত্বের লাগাতার দলত্যাগের জেরে চূড়ান্ত ডামাডোলের মধ্যে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ কর্মীরা। সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে দলের হেভিওয়েট নেতারা যখন শিবির বদল, ইস্তফা, আত্মগোপন বা গ্রেফতারে জর্জরিত, তখন নিচুতলার কর্মীদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। বিভিন্ন জেলায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং দিশেহারা কর্মীরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে জেলাগুলি

নদিয়া, কোচবিহার বা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মতো জেলাগুলিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজ একেবারেই থমকে গিয়েছে। নদিয়ার প্রবীণ নেতাদের মতে, আগে জেলায় ভয়ের পরিবেশ এবং তোলাবাজির রাজনীতির পর এখন শীর্ষ নেতারা পুরোপুরি বেপাত্তা। কোচবিহারে ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের নেতারা কর্মীদের ফোন পর্যন্ত ধরছেন না। বেশির ভাগ নেতাই এলাকাছাড়া হওয়ায় সাধারণ কর্মীরা বাধ্য হয়ে স্থানীয়ভাবে নিজেদের আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করছেন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনাতেও দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ায় কে কোন পদে আছেন, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

মমতাতেই আস্থা, তবে প্রবল অস্তিত্বের সংকট

দলের বড় পদাধিকারীরা নিজেদের বাঁচাতে এদিক-ওদিক চলে গেলেও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই আনুগত্য দেখা যাচ্ছে। উত্তর চব্বিশ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল নেতাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কর্মীরা এখনও তাঁর সঙ্গেই রয়েছেন। তবে প্রশাসনের চাপ এবং ব্লক স্তরের নেতাদের ক্রমাগত নিষ্ক্রিয়তার কারণে নিচুতলায় অস্তিত্বের সংকট প্রকট হচ্ছে। দলের কর্মীরা অনেকেই শান্তিতে বসবাসের আশায় নিজেদের মতো করে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন।

দলের অন্দরের এই ভাঙন, নেতাদের গ্রেফতারি এবং চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই তৃণমূলের নিচুতলার সংগঠন আজ বিপর্যস্ত। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কর্মীদের এই যোগাযোগহীনতা এবং আস্থার অভাব আগামী দিনে দলের স্থানীয় সাংগঠনিক ভিত্তিকে সম্পূর্ণ রূপে ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *