নেপাল-তিব্বতে প্রলয়ঙ্করী হড়পা বান: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮২, আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে ত্রাণ পাঠাল ভারত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশেষ প্রতিবেদন: ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিক্রান্ত, অথচ প্রকৃতির ধ্বংসলীলায় লন্ডভন্ড নেপালে আতঙ্ক ও কান্নার রোল থামেনি। ভয়াবহ হড়পা বানের (Flash Flood) তাণ্ডবে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮২-তে (নেপালে ৬৭৫ এবং তিব্বতে ৭)। এখনো প্রায় ৩,০০০ মানুষ নিখোঁজ, যাদের মধ্যে বহু বিদেশি পর্যটক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীরা রয়েছেন। দুর্গম এলাকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তল্লাশি অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারে তৎপর নয়াদিল্লি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA)।
- কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে যৌথ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ১০৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।
- নতুন করে প্রায় ৫০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে।
- বর্তমানে ২৭৫ জন ভারতীয় এবং ১২৮ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।
- কৈলাস-মানসরোবর যাত্রীসহ চীন সীমান্ত দিয়ে ফেরত আসা প্রায় ৫৯৮ জন ভারতীয়কে নিরাপদে নেপালে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আরও প্রায় ৯০০ জন ভারতীয় তিব্বত অংশে নিরাপদে আছেন বলে জানানো হয়েছে।
ত্রাণ পাঠাল ভারত, চাওয়া হলো ‘বেইলি ব্রিজ’ শুধুমাত্র নিজস্ব নাগরিকদের উদ্ধারই নয়, বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। নেপালের অন্তত ২৪টি সেতু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাস্তা সচল করতে এবং ধ্বস সরাতে ভারত ও চীনের কাছে ‘বেইলি ব্রিজ’ (Bailey Bridge) চেয়েছে নেপাল সরকার।
ভারত ইতোমধ্যে ৩টি বিশেষ বিমানে প্রায় ৬০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে কম্বল, জরুরি ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য ও জল বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। এ ছাড়াও সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের বের করে আনতে ভারত থেকে একটি বিশেষ টানেল রেসকিউ টিম (Tunnel Rescue Team) নেপালে পৌঁছেছে।
সুড়ঙ্গে অলৌকিকের প্রার্থনা, আকাশপথে উদ্ধার নেপালের রাসুয়া জেলার ‘ত্রিশূলী হাইড্রো প্রজেক্ট’-এর কাদাভরা সুড়ঙ্গে এখনও ১০০-র বেশি মানুষ আটকে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকা থেকে শিশু, প্রবীণ ও আহতদের উদ্ধার করছে। এ পর্যন্ত ৩,৭০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। প্রিয়জনদের ফিরে পেতে স্বজনদের প্রার্থনার শেষ নেই।
নতুন বন্যার আতঙ্ক উদ্ধারকাজের মধ্যেই হিমালয়ের উঁচুতে তৈরি হওয়া দুটি প্রাকৃতিক কৃত্রিম হ্রদ (‘Barrier Lakes’) নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হ্রদের জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। নতুন করে এটি ফেটে গেলে ফের প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান এবং নিহত ভারতীয়দের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত তারা নেপাল সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাবে।
