পঁচিশে বৈশাখে বাংলায় নতুন সূর্যোদয়, ব্রিগেডে প্রথম বিজেপি সরকারের মেগা শপথ
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/06/modi-2026-05-06-15-15-01.jpg)
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচিত হতে চলেছে এক নজিরবিহীন অধ্যায়। আগামী ৯ মে, অর্থাৎ পঁচিশে বৈশাখের পুণ্যলগ্নে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীকে সামনে রেখে এই বিশেষ দিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে গেরুয়া শিবির কার্যত এক গভীর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা দিতে চাইছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের দেওয়া ‘বহিরাগত’ তকমা ঘুচিয়ে নিজেদের বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রকৃত ধারক হিসেবে তুলে ধরাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন ও কেন্দ্রীয় তৎপরতা
সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া তদারকি করতে বৃহস্পতিবার রাতেই কলকাতায় পা রাখছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ৮ মে, শুক্রবার বিকেল ৪টেয় নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভার দলনেতা তথা রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে। বাংলার মসনদে কার অভিষেক হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।
ব্রিগেডে নক্ষত্র সমাবেশ ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ
৯ মে সকাল ১০টায় আয়োজিত এই মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে তিলোত্তমায় এখন সাজ সাজ রব। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়াও বিজেপি শাসিত দেশের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড কার্যত এক নক্ষত্র সমাবেশে পরিণত হতে চলেছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের মতে, পঁচিশে বৈশাখ বাঙালির আবেগের দিন হওয়ায় এই দিনটিকেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় চমক ও হেভিওয়েটদের ভিড়
নতুন সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং রুদ্রনীল ঘোষের মতো হেভিওয়েট নামগুলি মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এ ছাড়াও অভিজ্ঞ নেতা তাপস রায়কে বিধানসভার পরবর্তী স্পিকার হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ঐতিহ্যের ব্রিগেড এবং রবীন্দ্রজয়ন্তীর এই মেলবন্ধনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বুঝিয়ে দিতে চাইছে যে, তারা বাংলার মাটিরই দল। এখন শুধু অপেক্ষা ৮ মে বিকেলের, যখন চূড়ান্ত হবে আগামী পাঁচ বছর কার হাত ধরে পরিচালিত হবে পশ্চিমবঙ্গ।
