পকসো আইনে মেটাকে কড়া হুঁশিয়ারি! ৮ রাজ্যের ডিজিপি ও কেন্দ্রকে নোটিস মানবাধিকার কমিশনের – এবেলা
August 7, 2026

এবেলা ডেস্কঃ
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যমে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট (CSAM) এবং পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগে মেটা (Meta) ও দেশের ৮টি রাজ্যের পুলিশ প্রধানকে (DGP) কড়া নোটিস পাঠাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি পকসো (POCSO) আইনে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিষয়সমূহ:
- কমিশনের কড়া পদক্ষেপ: মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়ঙ্ক কানুনগো জানিয়েছেন, অর্থের বিনিময়ে নাবালকদের যৌন উস্কানিমূলক বা পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ছড়ানো পকসো আইনের অধীনে একটি গুরুতর অপরাধ।
- প্রমাণের ডিজিটাল নথি: কমিশন তদন্তকারীদের হাতে ৫০টি নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) তুলে দিয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, পুলিশ যদি এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের আমলাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের সুপারিশ করা হবে।
- আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের প্রভাব:
- বিবিসি (BBC)-র রিপোর্ট: সম্প্রতি বিবিসি জানায়, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে ধর্ষণের ভিডিও ছড়ানোর বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল এবং ইউজারদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে গিয়ে চাইল্ড পর্ন বিক্রি করা হতো।
- ওয়্যার্ড (WIRED)-এর রিপোর্ট: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস-এ এআই (AI) দিয়ে তৈরি নাবালকদের নগ্ন ছবি (AI Nudify) এবং যৌন উস্কানিমূলক বিজ্ঞাপনের অনুমোদন দিয়েছিল মেটা।
- জুকারবার্গের ক্ষমা প্রার্থনা: বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এবং ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সাথে বৈঠকের পর মেটা প্রধান মার্ক জুকারবার্গ প্ল্যাটফর্মের এই ব্যর্থতার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
যদিও মেটা দাবি করেছে যে শিশু শোষণের বিরুদ্ধে তাদের ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে এবং তারা প্রযুক্তি আরও উন্নত করছে, তবে মানবাধিকার কমিশন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে—কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি ফৌজদারি পদক্ষেপ নিতে হবে।
