পছন্দের বিয়ে করায় রাস্তায় ফেলে মেয়েকে চরম নির্যাতন, বিহারের ঘটনায় শিউরে উঠল দেশ! – এবেলা

পছন্দের বিয়ে করায় রাস্তায় ফেলে মেয়েকে চরম নির্যাতন, বিহারের ঘটনায় শিউরে উঠল দেশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিহারের মধেপুরা জেলায় নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ এক তরুণীকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনা একবিংশ শতাব্দীর সমাজব্যবস্থার সামনে এক অস্বস্তিকর আয়না তুলে ধরেছে। ২২ বছর বয়সী পূজা কুমারীকে তাঁরই বাবা-মা রাস্তায় ফেলে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে এবং গলায় পা তুলে দিয়ে যে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছেন, তা গ্রামীণ সমাজে ব্যক্তি স্বাধীনতার করুন দশাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

পছন্দের বিয়ের চরম মাসুল

প্রায় এক মাস আগে পূজা তাঁর পরিবারের অমতে এক যুবককে বিয়ে করেন। দুই পরিবার একই পাড়ার বাসিন্দা এবং আত্মীয় হওয়ায় এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি তরুণীর পরিবার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গ্রাম পঞ্চায়েত সালিশি সভা বসিয়ে নবদম্পতিকে আলাদা থাকার নিদান দেয় এবং ছেলের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে। এরপর পূজাকে জোরপূর্বক বাবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে গত ৮ জুন প্রকাশ্যে তাঁর ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, উপস্থিত গ্রামবাসীদের কেউ তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। পরে ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তৎপর হয়। তারা তরুণীকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নিয়েছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার কারণ ও সামাজিক প্রভাব

এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে মূলত কাজ করেছে তথাকথিত পারিবারিক সম্মান এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা। প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাধীনভাবে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার আইনি অধিকার থাকলেও, গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কাছে তা কীভাবে বারবার পদদলিত হচ্ছে, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। এই ধরনের ঘটনা সমাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে নারী স্বাধীনতা ও নারী নিরাপত্তার বিষয়টি আরও বেশি হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি, আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং সামাজিক বিচারের নামে বেআইনি ফতোয়া জারি করা যে এখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিকড় গেড়ে বসে আছে, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আরও একবার প্রমাণিত হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *