পঞ্চায়েত প্রধানদের ডানা ছাঁটল রাজ্য! আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে বিধানসভায় বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের গ্রামীণ প্রশাসনে দুর্নীতি রুখতে এবং উন্নয়নের গতি বাড়াতে এক ঐতিহাসিক ও কড়া সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। এবার থেকে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে আর সরাসরি কোনো আর্থিক ক্ষমতা বা ফান্ড পাসের অধিকার থাকছে না। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
খুব শীঘ্রই চলতি অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত একটি নতুন বিল পেশ করতে চলেছে সরকার।
কেন এই আকস্মিক ও কড়া সিদ্ধান্ত? দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসছিল যে, পঞ্চায়েতগুলিতে উন্নয়নের কাজ থমকে রয়েছে। পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানান, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় নির্বাচিত প্রধানরা এলাকায় থাকেন না বা দলবদল করেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর, আটকে যায় কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ও পরিষেবা। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানান, “ভোট শেষ, এখন একমাত্র লক্ষ্য উন্নয়ন। প্রধানদের অনুপস্থিতির কারণে মানুষ কেন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন? এই অচলাবস্থা কাটাতেই আইন বদলের পথে হাঁটছে সরকার।”
কী কী বদল আসছে নতুন নিয়মে?
- হাতছাড়া হচ্ছে ‘সিগনেটরি পাওয়ার’: এতদিন পঞ্চায়েতের যেকোনো ফান্ড বা বিল পাসের ক্ষেত্রে প্রধানের সই থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন বিল পাস হলে, বিডিও (BDO) বা পঞ্চায়েত সচিবদের মতো সরকারি আধিকারিকরাই আর্থিক লেনদেনের চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিতে পারবেন।
- বাড়বে কাজের গতি ও স্বচ্ছতা: মন্ত্রীর মতে, সরকারি আধিকারিকদের জবাবদিহি করতে হয় সরকারের কাছে। তাই তাঁদের হাতে ক্ষমতা থাকলে কাজ দ্রুত হবে এবং ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে উন্নয়ন আটকে থাকবে না।
- দুর্নীতিতে লাগাম: পঞ্চায়েতে টাকার লোভেই এত হিংসা ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে বলে দাবি মন্ত্রীর। তিনি বলেন, “প্রধানরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে অবশ্যই থাকবেন, কিন্তু সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে ফান্ডের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অধিকার কারও নেই।”
নিশানায় পূর্বতন সরকার এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন সরকারের ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পকেও একহাত নেন মন্ত্রী। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ওই প্রকল্পে কাজের কাজ কিছুই হয়নি, শুধু বোর্ড লাগানো হয়েছে। রাস্তা বা ফুটপাতের আসাম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে বর্তমান সরকার ফান্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় সরকারের এই বড়সড় রদবদল রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। এতে যেমন দুর্নীতি কমবে, তেমনই গতি আসবে থমকে থাকা উন্নয়নের কাজে।
