পঞ্জাবে পুলিশি হেফাজত থেকে বন্দির পালানোর চেষ্টা, ধস্তাধস্তির মাঝে গুলিতে মৃত্যু – এবেলা

পঞ্জাবে পুলিশি হেফাজত থেকে বন্দির পালানোর চেষ্টা, ধস্তাধস্তির মাঝে গুলিতে মৃত্যু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে পুলিশি হেফাজত থেকে এক বিচারাধীন বন্দির পালানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মাঝরাস্তায় সিনিয়র কনস্টেবলের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বন্দুক থেকে গুলি চলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ওই বন্দির। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে প্রবল ভাইরাল হয়েছে, যা বন্দি নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও ধস্তাধস্তি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত বন্দির নাম নসিব সিংহ। শনিবার দুপুরে নসিবসহ আরও তিন বিচারাধীন বন্দিকে আদালতে হাজির করার আগে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় চার জন পুলিশকর্মীর মধ্যে দু’জন অন্য বন্দিদের নিয়ে রিকশায় এগিয়ে যান। পিছনের একটি ই-রিকশায় নসিবের হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে তাঁর পাশে বসেছিলেন সিনিয়র কনস্টেবল জসদীপ সিংহ।

পথিমধ্যে হঠাৎই হেফাজত থেকে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালান নসিব। তিনি কনস্টেবলের হাত ছাড়িয়ে চলন্ত রিকশা থেকে লাফিয়ে নামেন। বন্দিকে ধরে রাখতে রিকশা থেকে নেমে ধাওয়া করেন কনস্টেবল জসদীপও। বিপদ আঁচ করতে পেরে ই-রিকশাচালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান এবং মাঝরাস্তাতেই দুজনের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

ধারালো অস্ত্র ও আত্মরক্ষার লড়াই

প্রাথমিক তদন্ত ও ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ধস্তাধস্তির সময় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযুক্ত বন্দি নসিব সিংহ কনস্টেবল জসদীপকে রাস্তায় ধাক্কা মেরে ফেলে দেন এবং একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর আচমকা আক্রমণ চালান। শুধু তাই নয়, কনস্টেবলের সার্ভিস রিভলভারটি কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন তিনি।

ধস্তাধস্তি ও বন্দুক ছিনতাইয়ের এই ধস্তাধস্তির মাঝেই ভুলবশত বন্দুক থেকে গুলি চলে যায়। গুলির আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাঝরাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন নসিব সিংহ এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বন্দির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন কনস্টেবল জসদীপ সিংহ। রক্তাত্ব অবস্থাতেই তিনি সাহায্যের জন্য হাসপাতালের দিকে ছুটে যান। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিরাপত্তা ঘাটতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি বন্দি পরিবহণের ক্ষেত্রে পুলিশি নিরাপত্তার বড়সড় ঘাটতিকে সামনে এনেছে। চারজন বন্দির বিপরীতে মাত্র চারজন পুলিশকর্মী থাকা এবং চার চাকার সুরক্ষিত বন্দি গাড়ির পরিবর্তে সাধারণ ই-রিকশায় করে বিপজ্জনক বন্দি নিয়ে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই ঘটনার পর পঞ্জাব পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছেন। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে বন্দি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আরও কঠোর প্রোটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *