পদত্যাগ না করায় বাংলায় নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট! বরখাস্ত হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা

পদত্যাগ না করায় বাংলায় নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট! বরখাস্ত হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র পেশ না করায় এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। সচরাচর নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে নৈতিকতা ও সংসদীয় রীতি মেনে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দিতে হয়। কিন্তু এই প্রচলিত প্রথা লঙ্ঘিত হওয়ায় রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

২০২১ সালের ৭ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান মন্ত্রিসভার কার্যকাল শুরু হয়েছিল। সেই অনুযায়ী আগামী ৭ মে, বৃহস্পতিবার সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। নিয়ম অনুযায়ী, পরাজিত বা জয়ী যে কোনো মুখ্যমন্ত্রীকেই ফল প্রকাশের পর পদত্যাগ করতে হয় এবং রাজ্যপাল পরবর্তী শপথ গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ‘তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বিষয়টি এখন আইনগত ও সাংবিধানিক সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে।

রাজ্যপালের ক্ষমতা ও সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ

বিদ্যমান এই সংকট নিরসনে রাজ্যপাল এন রবির ভূমিকা এখন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগের পাশাপাশি মন্ত্রীদের পদে থাকা মূলত রাজ্যপালের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে। যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে এবং সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি, তাই রাজ্যপাল চাইলে মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন।

বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাঝখানের দু’দিন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যপাল নিজেই মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিতে পারেন। এতে রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো চরম সিদ্ধান্ত এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিপূর্বে ঘোষণা করেছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

রাজ্য সরকারের মেয়াদ ফুরালেও বিধানসভার সদস্যদের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। এই অবস্থায় রাজভবন কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয় কি না, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবল গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার মতো ঘটনা দেশে বিরল হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গকে এক অদ্ভুত আইনি টানাপোড়েনের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *