‘পদ হারিয়ে ভিকটিম কার্ড খেলছেন!’ কাকলিকে নজিরবিহীন আক্রমণ কল্যাণের – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/25/tmc-internal-clash-after-kakoli-resignation-kalyan-banerjee-reaction-assembly-tragedy-2026-05-25-14-45-40.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: লোকসভার দলনেতা তথা চিফ হুইপের পদ হাতছাড়া হতেই তৃণমূলত্যাগী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে বারাসাতের প্রাক্তন সহকর্মীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এখন ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার চেষ্টা হচ্ছে। একই সঙ্গে কট্টর বিরোধী শিবিরের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের দরাজ প্রশংসা করে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা উস্কে দিলেন কল্যাণ।
সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভব্য আচরণের অভিযোগ এনে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে এসে সেই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। স্বভাবসিদ্ধ ‘ডোন্ট কেয়ার’ মেজাজে তিনি বলেন, “স্পিকার পদক্ষেপ করলে দেখা যাবে। যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত।” কল্যাণের দাবি, গত ৬ মে-র পর থেকেই দলবিরোধী কাজ শুরু করেছিলেন কাকলি। তিনি চিফ হুইপ হতেই কাকলি অন্য দলে যোগ দেন। এখন পদ হারানোর রাগ থেকেই এই ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গল্প সাজানো হচ্ছে।
পার্কস্ট্রিট কাণ্ড টেনে পাল্টা তোপ কল্যাণের:
কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁকে ‘নারী বিদ্বেষী’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন— এই অভিযোগ তুলে পালটা অতীত মনে করিয়ে দেন কল্যাণ। ২০১১ সালের পার্কস্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সেদিন নির্যাতিতা মহিলাকে নিয়ে উনি (কাকলি) কী মন্তব্য করেছিলেন, তা কি কারও মনে নেই?”
অগ্নিমিত্রার দরাজ প্রশংসা, অতীতেও নজর:
কাকলি ঘোষ দস্তিদার যেভাবে অতীতে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন, তার তীব্র বিরোধিতা করেন কল্যাণ। শত্রুতা ভুলে অগ্নিমিত্রার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে সাংসদ বলেন, “অগ্নিমিত্রা পাল অত্যন্ত ভালো পরিবারের মেয়ে। তাঁর বাবা পেশায় একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক, তাঁকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও ভীষণ শ্রদ্ধা করি। একজন মহিলা হয়েও অগ্নিমিত্রাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি উনি।” শুধু তাই নয়, সংসদে পিছনে বসে কাকলি খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর পোশাক ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে ব্যঙ্গ করতেন বলেও বিস্ফোরক দাবি করেন কল্যাণ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI) গঠন করে এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারপর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের এই দুই হেভিওয়েটের পুরনো ঠান্ডা লড়াই এবার প্রকাশ্য যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নিল।
