পরমাণু শক্তি দিয়ে শিশুদের রক্ষা? যুদ্ধের আবহে ইরান দেখালো এমন কিছু, যা আছে মাত্র ৫টি দেশের কাছে!

পরমাণু শক্তি দিয়ে শিশুদের রক্ষা? যুদ্ধের আবহে ইরান দেখালো এমন কিছু, যা আছে মাত্র ৫টি দেশের কাছে!

ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে চরম উত্তেজনার আবহে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘শান্তিপূর্ণ’ হিসেবে প্রমাণের এক অভিনব কৌশল নিয়েছে তেহরান। গত ১ মে ২০২৬ তারিখে ঘানায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, ইরান এখন নিজস্ব পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নবজাতক শিশুদের বিপাকীয় রোগ শনাক্তকরণ কিট তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই স্বাস্থ্য খাতে এই প্রযুক্তির প্রয়োগকে তেহরান তাদের বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠত্বের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে।

প্রযুক্তির প্রয়োগ ও বিশেষত্ব

সাধারণত পারমাণবিক বিজ্ঞান বলতেই বিধ্বংসী অস্ত্রের কথা মাথায় এলেও ইরান এখানে আইসোটোপ টেকনোলজি ও মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস ব্যবহার করছে। এই পদ্ধতিতে নবজাতকের গোড়ালি থেকে কয়েক ফোঁটা রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। পারমাণবিক গবেষণালব্ধ উচ্চ-নির্ভুল ডিটেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে রক্তে থাকা অতি ক্ষুদ্র রাসায়নিক অসঙ্গতিগুলো ধরা পড়ে। ফলে জন্মগত কোনো জটিল মেটাবলিক ডিসঅর্ডার বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি থাকলে তা শুরুতেই নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে।

স্বাস্থ্যখাতে প্রভাব ও সক্ষমতা

ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা বর্তমানে ৫৬ ধরনের বিপাকীয় রোগ শনাক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা আগে ছিল ৪৬টি। এই ধরনের উন্নত কিট উৎপাদনে ইরান বিশ্বের হাতেগোনা পাঁচটি দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। দেশটিতে এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়, যা জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান বিশ্বমঞ্চে বার্তা দিতে চায় যে, তাদের পারমাণবিক লক্ষ্য কেবল সামরিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বেসামরিক ও মানবিক কল্যাণে নিবেদিত।

এক ঝলকে

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে পেশ করছে তেহরান।

পরমাণু প্রযুক্তির সহায়তায় নবজাতকদের ৫৬ ধরনের জন্মগত জটিল রোগ শনাক্ত করছে ইরান।

আইসোটোপ ও মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস ব্যবহার করে অত্যন্ত নির্ভুল এই শনাক্তকরণ কিট তৈরি করা হয়েছে।

ইরান বিশ্বের মাত্র পাঁচটি দেশের একটি যারা এই উন্নত মানের মেডিকেল কিট তৈরিতে সক্ষম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *