পরিচয়পত্র দেখিয়েও কাজ হল না! স্ট্রং রুমে ঢুকতে বাধা পেলেন শশী পাঁজা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

পরিচয়পত্র দেখিয়েও কাজ হল না! স্ট্রং রুমে ঢুকতে বাধা পেলেন শশী পাঁজা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ইভিএম ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা তদারকি ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। শনিবার সকালে কলকাতা উত্তরের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম যেখানে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, সেখানে প্রবেশ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা। বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা তাঁকে আটকে দেওয়ায় এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তার অভিযোগ

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ শশী পাঁজা যখন স্ট্রং রুম চত্বরে পৌঁছান, তখন কর্তব্যরত এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান তাঁর পথ আটকান। প্রার্থী হিসেবে নিজের পরিচয় দিলেও সেই মুহূর্তে তাঁকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থী বা তাঁদের অনুমোদিত এজেন্টদের নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত যাওয়ার অধিকার থাকলেও, বাহিনীর এই ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুলিশি হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক পরিস্থিতি

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। তাঁর হস্তক্ষেপে এবং দীর্ঘ আলোচনার পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। পুলিশ বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর সংশ্লিষ্ট জওয়ান প্রার্থীকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। এর ফলে প্রায় আধ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং শশী পাঁজা স্ট্রং রুম চত্বরে প্রবেশ করেন।

ভোটের ফল ঘোষণার আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয় ও অতি-তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দানা বাঁধছে। প্রার্থীর অধিকার খর্ব করার অভিযোগে যেমন ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে, তেমনি স্পর্শকাতর এলাকায় কড়া নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এই ঘটনার জেরে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয় আরও নিবিড় করার দাবি উঠেছে।

এক ঝলকে

  • ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রং রুমে ঢুকতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লেন তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা।
  • বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান তাঁকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন।
  • কলকাতা পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভুল বোঝাবুঝি মেটে।
  • এই ঘটনায় ভোট-পরবর্তী নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *